ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলস-এ ‘পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট (পিসিএ)’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের বিস্তৃত ও গভীর চুক্তিতে যুক্ত হলো বাংলাদেশ, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এই চুক্তি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে শুধু উন্নয়ন সহায়তার সীমায় না রেখে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপান্তর করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত প্রায় ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় মাইলফলক।
নতুন পিসিএ চুক্তি ২০০১ সালের পুরোনো সহযোগিতা কাঠামোকে প্রতিস্থাপন করবে। এর ফলে বাংলাদেশকে আর শুধু সহায়তা গ্রহণকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং সমান মর্যাদার অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে রাজনৈতিক সংলাপ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় যৌথ ভূমিকা আরও জোরদার হবে।
বর্তমানে ইউরোপীয় বাজারই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য এই চুক্তি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
২০২৯ সালের পর ‘এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ)’ সুবিধা ধীরে ধীরে কমে আসার প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজার বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চুক্তির আওতায় বাণিজ্যের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সমুদ্র নিরাপত্তা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা জোরদার করা হবে। এতে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ইইউ একসঙ্গে কাজ করার নতুন প্ল্যাটফর্ম পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারে ইইউ’র কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, পিসিএ চুক্তি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্য, কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রঃ ইইএএস
এম.কে

