ব্রিটেনে ভিসা, পারিবারিক অভিবাসন, আশ্রয় কিংবা ফি মওকুফের আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অতিরিক্ত প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে হোম অফিস। অভিবাসন আইনে এ নীতিকে বলা হয় ‘এভিডেনশিয়াল ফ্লেক্সিবিলিটি’। তবে এটি সব আবেদনকারীর জন্য দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
আইনজীবী নাথ গবিকপি জানান, কোনো নথি অনুপস্থিত থাকলে, ভুল ফরম্যাটে জমা পড়লে কিংবা কোনো তথ্য স্পষ্ট করার প্রয়োজন হলে হোম অফিস আবেদনকারী বা তার প্রতিনিধির কাছে অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে। প্রয়োজনে স্পনসর বা অন্য কোনো পক্ষের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
আবেদনের প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব আবেদনকারীরই। তাই হোম অফিস পরে ঘাটতি পূরণের সুযোগ দেবে—এমন ধারণা করে অসম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। আবেদনভেদে প্রমাণের শর্ত আলাদা হওয়ায় এই নীতির প্রয়োগও ভিন্ন হতে পারে।
২০২৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় যুক্তরাজ্যের আপার ট্রাইব্যুনাল জানায়, দক্ষ কর্মী ভিসার এক আবেদনকারী প্রয়োজনীয় মানের ইংরেজি জানলেও ভুল ধরনের আইইএলটিএস সনদ জমা দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য অনুমোদিত সনদ প্রয়োজন ছিল। আবেদনকারী সঠিক সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন বলে মনে করার কারণ থাকায় তাকে ঘাটতি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল মত দেয়।
তবে স্বামী-স্ত্রী বা বাবা-মায়ের মাধ্যমে পারিবারিক ভিসার আবেদনে নির্দিষ্ট নথি জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এসব আবেদনে ধারাবাহিক কাগজপত্রের মধ্যে কোনো নথি বাদ পড়লে, ভুল ফরম্যাটের নথি জমা দিলে অথবা প্রয়োজনীয় তথ্য অনুপস্থিত থাকলে হোম অফিস অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে। কিন্তু ভুল ইংরেজি পরীক্ষার সনদের ক্ষেত্রে সংশোধনের সুযোগ সব সময় দেওয়া হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
অধিকাংশ অভিবাসন আবেদনে অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হলে সাধারণত একবার যোগাযোগ করে জবাব দেওয়ার জন্য ১০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়। ফি মওকুফের আবেদনে বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও সময় দেওয়া হতে পারে। তবে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। এ ধরনের আবেদনে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তাকে অন্তত আট সপ্তাহের মধ্যে কমপক্ষে দুইবার যোগাযোগের চেষ্টা করতে হয় এবং প্রতিবার জবাব দেওয়ার জন্য অন্তত ২৮ ক্যালেন্ডার দিন সময় দিতে হয়।
হোম অফিসের কাছে আগের কোনো আবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে নতুন করে তা চাইতে হবে না। একইভাবে অন্য কোনো কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে অতিরিক্ত নথি দিলেও সিদ্ধান্ত বদলাবে না—এমন পরিস্থিতিতেও নতুন প্রমাণ চাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। জাল নথি বা প্রতারণার সন্দেহ থাকলেও এই নমনীয়তার নীতি প্রযোজ্য নয়।
যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে নথি হারিয়ে ফেলা, নিজ দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম বন্ধ থাকা কিংবা নির্যাতনের কারণে ব্যক্তিগত নথি সংগ্রহ করতে না পারার মতো পরিস্থিতিতে হোম অফিস নথির ঘাটতি বিবেচনা করতে পারে। তবে আবেদনকারীকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন নথিটি পাওয়া যাচ্ছে না এবং সেটি সংগ্রহের জন্য কী কী চেষ্টা করা হয়েছে। সম্ভব হলে বিকল্প প্রমাণও জমা দেওয়া উচিত।
বিশ্লেষণে এমন এক নারীর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যিনি আশ্রয়প্রাপ্ত স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্য আবেদন করেছিলেন। সংঘাতের কারণে বাড়ি ছাড়ার সময় তাদের বিয়ের একমাত্র সনদ হারিয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন সনদ দেওয়ার মতো কার্যকর কর্তৃপক্ষও ছিল না। ওই নারী বিয়ের ছবি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ জমা দেন। স্বামীর আশ্রয় আবেদনের সাক্ষাৎকারেও স্ত্রী হিসেবে তার উল্লেখ ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হোম অফিস বিয়ের সনদ জমা দেওয়ার শর্ত মওকুফ করতে পারে।
আশ্রয় ও পারিবারিক নির্যাতনের মামলায় নির্দিষ্ট নথি বাধ্যতামূলক না থাকলে আবেদনকারীর নিজের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বক্তব্যটি বিস্তারিত, ধারাবাহিক ও বিশ্বাসযোগ্য হলে এবং প্রমাণ না থাকার যুক্তিসংগত কারণ থাকলে সেটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবেচিত হতে পারে।
আইনজীবী নাথ গবিকপির পরামর্শ, আবেদন করার সময়ই সব প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া উচিত। কোনো নথি সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে তার কারণ এবং সেটি সংগ্রহের জন্য নেওয়া পদক্ষেপ আবেদনে উল্লেখ করতে হবে। বিকল্প প্রমাণ থাকলে সেগুলোও জমা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি হোম অফিসের কাছে সঠিক যোগাযোগের তথ্য দিতে হবে, যাতে অতিরিক্ত নথি চেয়ে পাঠানো বার্তা বাদ না পড়ে।
নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে আবেদনকারীকে ঘাটতি পূরণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল, সেখানে তা না দিয়েই আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে সিদ্ধান্তটি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট মামলার আলোকে প্রশাসনিক পর্যালোচনার সময়ও অনুপস্থিত প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

