ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিল অভিবাসনবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা না করার পক্ষে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। সোমবার অনুষ্ঠিত পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল সভায় লেবার পার্টি, গ্রিন পার্টি ও নিউহ্যাম ইন্ডিপেনডেন্টস গ্রুপের কাউন্সিলররা প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। এতে বলা হয়েছে, আইনগতভাবে বাধ্য না হলে অভিবাসন অভিযান পরিচালনায় কাউন্সিলের কর্মী, ভবন, সরঞ্জাম কিংবা অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করা হবে না।
নিউহ্যাম ইন্ডিপেনডেন্টস গ্রুপের উত্থাপিত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হোম অফিস বা অন্য কোনো সংস্থার অভিবাসন অভিযানে কাউন্সিল কেবল তখনই সহযোগিতা করবে, যখন এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে। কাউন্সিলের কর্মীদের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার মতো দায়িত্ব পালন করতেও বাধ্য করা উচিত নয় বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কাউন্সিলরদের যুক্তি, অভিবাসন অভিযান নিয়ে আতঙ্কের কারণে অনেক বাসিন্দা সরকারি সেবা গ্রহণ কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়তা চাইতে ভয় পেতে পারেন। বিশেষ করে যারা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রয়েছেন বা শোষণের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় আছেন, তাদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৈচিত্র্যময় এলাকা নিউহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা, সুযোগ ও উন্নত জীবনের আশায় আসা মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাউন্সিলের নিজস্ব সম্পদ, তথ্য এবং পরিষেবা ব্যবহার করা উচিত। অপ্রয়োজনীয়ভাবে এসব সম্পদ অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তবে নিউহ্যাম কাউন্সিল জানিয়েছে, সোমবারের ভোটের ফলে তাদের নীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসছে না। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বলেন, “নিউহ্যাম কাউন্সিল বহু বছর ধরেই হোম অফিস বা অন্য কোনো সংস্থার অভিবাসন অভিযানে সহযোগিতা করে না এবং এখনো করে না।”
শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে নিউহ্যামকে ‘বরো অব স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছিলেন কাউন্সিলররা। চলতি বছরও তারা সেই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এর লক্ষ্য হলো শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী ও নিরাপত্তার খোঁজে আসা অন্য ব্যক্তিদের স্থানীয় পরিষেবা, সহায়তা ও সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।
ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ব্রিটিশ ফিউচারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউহ্যামের অধিকাংশ বাসিন্দা এলাকার সাংস্কৃতিক ও জাতিগত বৈচিত্র্যকে ইতিবাচক সম্পদ হিসেবে দেখেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, লন্ডনের অন্যান্য কাউন্সিলেও একই ধরনের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত সাতটি লন্ডন কাউন্সিল হোম অফিসের অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অভিযানে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর অবস্থান নিয়েছে। তবে নিউহ্যাম কাউন্সিলের সর্বশেষ ভোটটি নতুন নীতি প্রণয়নের পরিবর্তে বিদ্যমান অবস্থানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
সূত্রঃ ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড
এমকে

