ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ তার প্রস্তাবিত অভিবাসন সংস্কারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, এমন অভিবাসী কেয়ারকর্মীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম আই পেপারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার আবেদন করতে ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে ইউনিসন ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান আন্দ্রেয়া ইগানের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল মাহমুদের। ওই আলোচনায় একজন অভিবাসী কেয়ারকর্মীকেও অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ইগান। তবে মাহমুদ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এর পর বৈঠকটি বাতিল করা হয়।
শাবানা মাহমুদের অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সমালোচনা কমাতে এবং দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সামাল দিতে তিনি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেবার পার্টির সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিসন শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। ২০২২ সালে লেবার পার্টির বামপন্থী সদস্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সময় দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া আন্দ্রেয়া ইগান প্রস্তাবিত সংস্কারকে ‘অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইগান বলেন, যেসব অভিবাসী কর্মীর জীবন এই কঠোর প্রস্তাবের কারণে বিপর্যস্ত হতে পারে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে শাবানা মাহমুদের ব্যর্থতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, এসব কর্মী দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ এবং ব্রিটেনের জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা এবং উপেক্ষা করা ইউনিসন মেনে নেবে না।
তবে স্বরাষ্ট্র দপ্তর আই পেপারকে জানিয়েছে, বৈঠকটি ছিল শাবানা মাহমুদ ও আন্দ্রেয়া ইগানের মধ্যে ব্যক্তিগত আলোচনা। ইউনিসনই বৈঠকটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে দপ্তরটি দাবি করেছে।
এদিকে, লেবার পার্টির সাবেক ছায়া অর্থমন্ত্রী জন ম্যাকডোনেল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, অভিবাসীদের কাজের ভিসা-সংক্রান্ত বিষয়টি লেবার পার্টির মধ্যে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় বিভক্তি তৈরি করছে।
বৃহস্পতিবার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফাহনবুল্লে পাঁচবারের প্রশ্নের মুখেও অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে ১৫ বছর অপেক্ষা করানোর নীতিকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এবং পরে মুছে ফেলা এক পোস্টে তিনি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে মানুষের অপেক্ষার সময় বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছিলেন।
চলতি বছরের মার্চে মন্ত্রিসভার সদস্য না থাকাকালে লেবার পার্টির সাবেক উপনেতা অ্যাঞ্জেলা রেনারও এই সংস্কার পরিকল্পনাকে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে নীতি নিয়ে মন্ত্রিসভার মধ্যে বিভক্তির খবর প্রকাশের পর তিনি সেই বিরোধের মাত্রা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
দ্য ক্রিটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার প্রস্তাবিত নীতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার সময় পিছিয়ে দিয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়া জনপরামর্শ প্রক্রিয়ায় পাওয়া মতামতগুলো এখনো বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত রূপ ও বাস্তবায়নের সময়সীমা নিশ্চিত নয়।
সূত্রঃ ইউনিসন\ দ্য আই পেপার
এমকে

