15.7 C
London
October 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ক্ষমতায় গেলে আফগান ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের দেশছাড়া করার হুমকি রিফর্ম ইউকের

ব্রিটেনে ক্ষমতায় গেলে আফগান ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের পুনর্বাসন কর্মসূচি বন্ধ করে ওই কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে আসা ব্যক্তিদেরও ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে রিফর্ম ইউকে। দলটির নেতা নাইজেল ফারাজ জানিয়েছেন, সরকার গঠন করতে পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের চালু করা শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি অবিলম্বে বন্ধ করা হবে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে অভিবাসন নীতি নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন ফারাজ। এর মধ্যে রয়েছে আফগান শরণার্থীদের পুনর্বাসন কর্মসূচি পর্যালোচনা, এসব কর্মসূচির ব্যয় প্রকাশ এবং আফগান অভিবাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সামগ্রিক প্রভাব তুলে ধরা।

ফারাজের দল আরও পরিকল্পনা করছে, যেসব শরণার্থীকে নিজ দেশে বিপদের মুখে রয়েছেন বলে বিবেচনা করা হবে না, তাদের ব্রিটেনে থাকার অধিকার বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ব্রিটেনের সুযোগের অপব্যবহার করেছেন বলে যাদের বিবেচনা করা হবে, তাদেরও ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফারাজ বলেছেন, ব্রিটেন আরও অভিবাসী গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। তার ভাষ্য, রিফর্ম ইউকে সরকার গঠন করলে এসব অভিবাসীকে আর ব্রিটেনে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না।

গত সেপ্টেম্বরে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শরণার্থীদের জন্য একটি বৈধ ও নিরাপদ পুনর্বাসনপথ পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন। এই কর্মসূচিতে আফগান নারী ও কিশোরীদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় গেলে কর্মসূচিটি বন্ধ করে এর আওতায় আসা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠাতে চায়।

এদিকে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান ও সোমালিয়া যদি ব্রিটেন থেকে অবৈধ অভিবাসী এবং বিদেশি অপরাধীদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে দেশগুলোর ওপর বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে রিফর্ম ইউকে।

দলটি আরও ঘোষণা করতে যাচ্ছে, ২০১০ সাল থেকে কতজন অভিবাসী ব্রিটেনে প্রবেশ করেছেন, তাদের জাতীয়তা এবং প্রবেশের পথ অনুযায়ী বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ করা হবে। এ জন্য সরকারের অভিবাসনসংক্রান্ত নথি পূর্ণাঙ্গভাবে নিরীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীর সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। ২০০৫ সালে প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ব্রিটেনে থাকার অধিকার ছাড়াই অবস্থান করছিলেন। এরপর এ বিষয়ে হালনাগাদ সরকারি হিসাব প্রকাশিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিফর্ম ইউকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্য ব্যবহার করে দুই দশকেরও বেশি সময় পর ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে। নিরীক্ষায় যাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করা হবে, তাদের আটক করে দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া কোনো অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হলে তার জাতীয়তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেবে দলটি।

ব্রিটেনে বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে সম্প্রতি শত শত বন্দিকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে আরও বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রিফর্ম ইউকের পাশাপাশি কনজারভেটিভ পার্টিও বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯২৮ জন বিদেশি অপরাধীকে ব্রিটেন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই সংখ্যায় স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা এবং বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠানো—উভয় ধরনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, আফগান ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত নীতি। এটি বর্তমানে কার্যকর সরকারি সিদ্ধান্ত নয়।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে জ্বালানি দামের ধাক্কায় চাপে ব্রিটিশ মধ্যবিত্ত, জীবনযাত্রার মান কমার আশঙ্কা

একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘লন্ডন বহুভাষিক দিবস’ ঘোষণার আহ্বান

ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়ানোয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়