TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে খাদ্যপণ্যে হালাল পরিচয় নিশ্চিতের দাবিঃ ভোক্তাদের তথ্য জানাতে বাধ্যতামূলক লেবেলিং প্রস্তাব

ব্রিটেনে লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন অজান্তেই হালাল মাংস খাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির এক সংসদ সদস্য। এ নিয়ে হালাল ও ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী প্রস্তুত কোশার মাংসের প্যাকেটে বাধ্যতামূলকভাবে পরিচয় উল্লেখ করার দাবি জানিয়েছেন টোরি এমপি এসথার ম্যাকভে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খাদ্যশিল্পে হালাল ও কোশার মাংসের পরিচয় অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তাদের কাছ থেকে আড়াল করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বাধ্যতামূলক লেবেলিং চালুর লক্ষ্যে তার উত্থাপিত একটি টেন মিনিট রুল বিল হাউস অব কমন্সে পরবর্তী ধাপের জন্য অনুমোদন পেয়েছে।

ম্যাকভের মতে, হালাল ও কোশার মাংসের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লেবেলিংয়ের তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। এগুলো হলো—ভোক্তার পছন্দের স্বাধীনতা, প্রাণীর কল্যাণ এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিটেনে উৎপাদিত হালাল মাংসের প্রায় ৮৮ শতাংশ জবাইয়ের আগে প্রাণীকে অচেতন করার প্রক্রিয়া বা প্রি-স্টানিংয়ের মধ্য দিয়ে যায়। তবে কোন মাংসের ক্ষেত্রে প্রাণীকে অচেতন করা হয়েছে আর কোন ক্ষেত্রে হয়নি, তা প্যাকেটের লেবেল দেখে বোঝার কোনো বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই।

ব্রিটিশ প্রাণীকল্যাণ সংস্থা আরএসপিসিএর তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩ কোটি প্রাণীকে অচেতন না করেই জবাই করা হয়েছে। এসথার ম্যাকভে এ ধরনের জবাইকে ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, গরুর গলা কাটার পর অচেতন হতে ২০ সেকেন্ড থেকে দুই মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মুরগির ক্ষেত্রে এ সময় লাগে সাত থেকে ১৮ সেকেন্ড।

যুক্তরাজ্যে সাধারণভাবে প্রাণীকে অচেতন না করে জবাই করা বেআইনি হলেও ধর্মীয় কারণে এ ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রয়েছে। হালাল ও কোশার জবাইয়ের সময় ধর্মীয় প্রার্থনা বা আশীর্বাদ পাঠ করা হয় এবং প্রাণীর গলা কেটে রক্ত বের হতে দেওয়া হয়। তবে কোশার মাংসের ক্ষেত্রে জবাইয়ের আগে প্রাণীকে অচেতন করার অনুমতি নেই।

ব্রিটেনে হালাল মাংসের বড় বাজার গড়ে উঠেছে বলেও দাবি করেছেন ম্যাকভে। তিনি বলেন, ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০০ কোটি প্রাণী প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২১ কোটি ৫০ লাখ প্রাণী হালাল ও কোশার মাংসের বাজারের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে তার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, এই মাংসের সবটুকু শুধু মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না। যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশেও হালাল মাংস রপ্তানি করা হচ্ছে।

ম্যাকভের দাবি, উৎপাদন প্রক্রিয়ার কিছু ধাপ বাদ পড়ায় এ ধরনের মাংস তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব। ফলে সাধারণ বাজারেও কম দামে এসব মাংস বিক্রি হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, রেস্তোরাঁ, টেকওয়ে, হাসপাতাল এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাবারেও অনেক সময় হালাল ও কোশার মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে, অথচ ভোক্তারা তা জানতে পারছেন না।

এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছেন এই টোরি এমপি। তার অভিযোগ, লেবার সরকারের প্রাণীকল্যাণ কৌশলপত্রে গলদা চিংড়ি ও খামারে উৎপাদিত মাছের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও ধর্মীয় পদ্ধতিতে প্রাণী জবাইয়ের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোক্তারা কী খাবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তাই খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানানো প্রয়োজন।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডের একটি ব্রিজে স্যুটকেসে দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ১

যুক্তরাজ্যে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় শিশুসহ ৩ বাংলাদেশি নিহত

হার্ভার্ডের ১০৩টি ফ্রি কোর্স

অনলাইন ডেস্ক