9.5 C
London
October 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎহীন থাকার আশঙ্কাঃ জীবনঘাতী বিপদ এড়াতে জরুরি সতর্কতা

ব্রিটেনে টানা তিন দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা কোনো হামলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে ঘরের ভেতরে ক্যাম্পিং চুলা ব্যবহার না করার বিষয়ে জরুরি সতর্কতা দিয়েছেন দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি বিশেষজ্ঞরা।

গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত নটিংহ্যাম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দ্য প্রিপেয়ার্ড হাউসহোল্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা মার্কাস ক্লার্ক বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময় বিকল্প উপায়ে রান্না করতে গিয়ে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

বিদ্যুৎ চলে গেলে খাবার গরম করা কিংবা পানি ফুটানোর জন্য অনেকেই বহনযোগ্য ক্যাম্পিং চুলা ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন। কিন্তু এ ধরনের চুলা ঘরের ভেতরে ব্যবহার করলে কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মার্কাস ক্লার্ক বলেন, বাড়ি, শেড, গ্যারেজ কিংবা অন্য কোনো আবদ্ধ স্থানে ক্যাম্পিং চুলা ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসব চুলা খোলা জায়গায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে উৎপন্ন গ্যাস নিরাপদে ছড়িয়ে যেতে পারে। ঘরের ভেতরে এই গ্যাস দ্রুত জমে যেতে পারে, অথচ তা দেখা, গন্ধ নেওয়া কিংবা স্বাদ দিয়ে শনাক্ত করা সম্ভব নয়।

কার্বন মনোক্সাইডকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। এটি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন গ্যাস। এই গ্যাসের প্রাথমিক বিষক্রিয়ায় মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। গুরুতর বিষক্রিয়ায় অজ্ঞান হওয়া এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জানালা কিংবা দরজা খোলা রাখলেও ঘরের ভেতরে ক্যাম্পিং চুলা ব্যবহার নিরাপদ হয়ে যায় না। তাই জরুরি পরিস্থিতিতেও বাইরে ব্যবহারের জন্য তৈরি কোনো চুলা ঘরের ভেতরে ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ চলে গেলে রান্নার জন্য ক্যাম্পিং চুলা ও গ্যাসচালিত বারবিকিউ বাইরে ব্যবহার করতে হবে। তবে দরজা, জানালা ও বায়ু চলাচলের পথ থেকে দূরে রাখতে হবে, যাতে ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

ঠান্ডা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত পোশাক, কম্বল ও স্লিপিং ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই ইনসুলেটেড ফ্লাস্কে গরম পানীয় সংরক্ষণ করে রাখলেও তা কাজে আসতে পারে।

এ ছাড়া বাড়িতে কার্বন মনোক্সাইড শনাক্তকারী অ্যালার্ম সচল আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব বাড়িতে গ্যাসচালিত বয়লার, আগুন জ্বালানোর ব্যবস্থা কিংবা জ্বালানিনির্ভর চুলা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কাস ক্লার্কের মতে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময় হাতের কাছে থাকা যেকোনো সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রবণতা স্বাভাবিক। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা মূল সমস্যার চেয়েও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

সূত্রঃ নটিংহ্যাম পোস্ট

এমকে

আরো পড়ুন

বার্মিংহামে বাগান থেকে চুরি যাচ্ছে বাংলাদেশি সবজি

লেবার নেতাকে ‘নারী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যাঃ কনজারভেটিভদের কটাক্ষে উত্তপ্ত ব্রিটিশ রাজনীতি

ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য