17.8 C
London
May 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে জনসংখ্যা সংকট বাড়ছেঃ তবে বাংলাদেশি পরিবারে বাড়ছে শিশুজন্ম

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে শিশুজন্মের হার বাড়তে থাকায় দেশটিতে বিদেশে জন্ম নেওয়া বাবা-মায়ের সন্তানের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। একই সময়ে ব্রিটিশদের সামগ্রিক জন্মহার নেমে এসেছে গত প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের (ওএনএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৪০ দশমিক ২ শতাংশের অন্তত একজন অভিভাবক বিদেশে জন্মগ্রহণকারী। ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০০৮ সালে ছিল ৩০ দশমিক ১ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৬ শিশুর জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৫ হাজার শিশুর অন্তত একজন অভিভাবক অভিবাসী।

বিদেশে জন্ম নেওয়া মায়েদের তালিকায় ভারতের পরই রয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি বাংলাদেশও রয়েছে শীর্ষ অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। ওএনএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ঘানা ও আফগানিস্তান থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ যুক্তরাজ্যে অভিবাসন করেছেন এবং এসব সম্প্রদায়ের পরিবারে শিশুজন্মের হার তুলনামূলক বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিটেনে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ধরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ওএনএসের তথ্যে আরও দেখা যায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সামগ্রিক জন্মহার কমে ১৯৭৭ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৭ থেকে গত বছর জন্মসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৯৬-এ, যা ১ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস।

এছাড়া প্রতি নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৯-এ, যা ১৯৩০-এর দশক থেকে রেকর্ড রাখা শুরুর পর সর্বনিম্ন। জনসংখ্যাবিদদের মতে, কোনো দেশে অভিবাসন ছাড়া জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে এ হার অন্তত ২ দশমিক ১ হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জন্মহার কমতে থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে এবং স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সরকারি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় অভিবাসী পরিবার ও তাদের নতুন প্রজন্ম দেশটির শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার কল্যাণব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পেনশন সুরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ম্যাকসুইনির পদত্যাগ, ম্যান্ডেলসন নিয়োগে স্টারমারকে পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ দায় স্বীকার

যুক্তরাজ্যে উইন্ডরাশ ভুক্তভোগীদের জন্য নতুন উদ্যোগঃ ক্ষতিপূরণের ৭৫% আগাম দেবে সরকার

সুনাক প্রশাসনে ফের অঘটন, আরও দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ