23.6 C
London
September 25, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে পারমাণবিক হামলা বা তেজস্ক্রিয়তা ছড়ালে ঘরের ভেতরেই থাকার নির্দেশনা

পারমাণবিক হামলা বা অন্য কোনো তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সাধারণ মানুষের করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারি নির্দেশনায় তিনটি মূল পদক্ষেপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—‘গো ইন, স্টে ইন, টিউন ইন’, অর্থাৎ ভেতরে যান, ভেতরেই থাকুন এবং সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুসরণ করুন।
ব্রিটিশ সরকারের জিওভি ডট ইউকে (GOV.UK)-তে প্রকাশিত ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, কেউ যদি জানতে পারেন যে তিনি তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতির কাছাকাছি রয়েছেন, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব কোনো ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিতে হবে। বাইরে থাকা অবস্থায় অপ্রয়োজনে অবস্থান না করে নিরাপদ ভবনে ঢুকে দরজা-জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভবনের বাইরের দেয়াল, দরজা ও জানালা থেকে যতটা সম্ভব দূরে অবস্থান করতে হবে। ভবনের মাঝামাঝি অংশে থাকা তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে, কারণ এতে ভবনের বাইরে জমে থাকা তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শ কমানোর সুযোগ থাকে। ইট, পাথর বা কংক্রিটের তৈরি ভবন সুরক্ষার জন্য বেশি কার্যকর হলেও যেকোনো ভবনের ভেতরে থাকা বাইরে থাকার চেয়ে নিরাপদ বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার পর সব বাইরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে হবে। ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা বন্ধ করার পাশাপাশি বাইরের বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে এমন ভেন্ট বা বায়ু চলাচলের পথও বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো বাইরে থাকা তেজস্ক্রিয় পদার্থের ঘরে প্রবেশের সম্ভাবনা কমানো।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষকে এক থেকে দুই দিন ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও বেশি সময় আশ্রয়ে থাকতে হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশনা পরিবর্তিত হতে পারে।
তৃতীয় ধাপ ‘টিউন ইন’ বা সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা। মানুষকে টেলিভিশন, রেডিও, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পুলিশের মাধ্যমে দেওয়া সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা নির্দেশনাও পরিবর্তিত হতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোনো রেডিয়েশন ইমার্জেন্সির সবচেয়ে বেশি প্রভাব সাধারণত ঘটনাস্থলের কয়েক মাইলের মধ্যে পড়তে পারে। তবে বাতাসের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় পদার্থ দূরের এলাকাতেও পৌঁছাতে পারে। কতটা এলাকা আক্রান্ত হবে, তা নির্ভর করবে জরুরি পরিস্থিতির মাত্রা, আবহাওয়া এবং বিশেষ করে বাতাসের গতি ও দিকের ওপর।
তেজস্ক্রিয়তা মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্থিতিশীল আয়োডিন গ্রহণ এবং খাদ্য ও পানির ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এসব পদক্ষেপ পরিস্থিতির ধরন ও তেজস্ক্রিয়তার মাত্রার ওপর নির্ভর করবে।
কেউ তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে এলে নিজেকে পরিষ্কার বা ডিকনট্যামিনেট করার প্রয়োজন হতে পারে। ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির পৃথক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাইরের পোশাক খুলে ফেললে শরীর থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উল্লেখযোগ্য অংশ সরানো সম্ভব।
ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তুতিমূলক নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে কোথায় আশ্রয় নিতে হবে, কতক্ষণ থাকতে হবে বা কখন স্থানত্যাগ করতে হবে—এসব বিষয়ে জরুরি সেবা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দেশনা দেবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী আশ্রয় নেওয়ার পর পরবর্তী সময়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের এই নির্দেশনা কোনো নির্দিষ্ট পারমাণবিক হামলা আসন্ন বা ব্রিটেনে হামলার ঘোষণা নয়। রেডিয়েশন ইমার্জেন্সি বা তেজস্ক্রিয়তা-সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে জনসাধারণের সুরক্ষার জন্য এটি একটি বিদ্যমান সরকারি প্রস্তুতিমূলক নির্দেশনা। ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সির জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত নির্দেশনাটি সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে হালনাগাদ করা হয়েছে।
এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্রিটিশ সরকারের হোম অফিস ডোমেস্টিক রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি সিস্টেম বা দেশের অভ্যন্তরীণ রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। এতে ব্রিটেনে রেডিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার ঝুঁকি শনাক্ত ও মোকাবিলার সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রঃ ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি\ ইউকে.গভ
এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে একদিনে কোভিড সনাক্ত ২৪ হাজার, মৃত্যু ৬৫

হোম অফিসের আপত্তি প্রত্যাখানঃ আলবেনিয়ান মাদক ব্যবসায়ীকে দেশে ফেরানো যাবে না

যুক্তরাজ্যে ই-ভিসা বিপর্যয়ঃ হাজার হাজার অভিবাসী ঝুঁকিতে, সময় গড়াচ্ছে শেষ মুহূর্তে