TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে প্রতিটি বাড়িতে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী রাখার পরামর্শঃ প্রকাশ হলো পূর্ণ তালিকা

ব্রিটেনের প্রতিটি পরিবারকে বাড়িতে ২২ ধরনের জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন একজন ফার্মাসিস্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ কিংবা জরুরি সেবা ব্যাহত হলে যাতে পরিবারের সদস্যরা অন্তত কয়েক দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশটির সরকার ‘বি রেডি’ নামে তিন বছর মেয়াদি একটি জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রবল ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানির সরবরাহ বন্ধ কিংবা ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এটি কোনো আসন্ন যুদ্ধ, হামলা বা নির্দিষ্ট সংকটের পূর্বাভাস নয়।

ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্রিটেনেও নাগরিকদের জরুরি প্রস্তুতির অভ্যাস গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি, পরিবারগুলো নিজেদের তিন দিনের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারলে জরুরি সেবাগুলো সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের দিকে মনোযোগ দিতে পারবে।

সরকারের তালিকায় পানি, শুকনো খাবার, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার সামগ্রী, টর্চ, কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, গরম কাপড়, রেডিও, পাওয়ার ব্যাংক, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, পোষা প্রাণীর খাবার, শিশুখাদ্য, ডায়াপার ও ওয়াইপস রাখার পরামর্শ রয়েছে।

তবে সরকারের তালিকায় জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় এ বিষয়ে আলাদা পরামর্শ দিয়েছেন অনলাইন ফার্মেসি কেমিস্টফোরইউর ফার্মেসি বিভাগের প্রধান জেসন মারফি।

তার মতে, প্রতিটি পরিবারের এমন একটি প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স রাখা উচিত, যাতে সাধারণ কাটা-ছেঁড়া, পোড়া, মচকে যাওয়া এবং ছোটখাটো অসুস্থতা মোকাবিলা করা যায়। তিনি ১৫ ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ১৫টি প্রয়োজনীয় সামগ্রী হলোঃ

1\. বিভিন্ন আকারের ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টার।

2\. জীবাণুমুক্ত গজ ড্রেসিং।

3\. মেডিকেল টেপ।

4\. মচকে যাওয়া স্থানে ব্যবহারের জন্য ক্রেপ বা ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ।

5\. হাত ঝুলিয়ে রাখার জন্য ত্রিভুজাকার ব্যান্ডেজ।

6\. জীবাণুনাশক ওয়াইপস।

7\. পোড়া স্থানে ব্যবহারের জন্য বার্ন জেল বা ড্রেসিং।

8\. কাঠের কাঁটা বা ছোট বস্তু বের করার জন্য টুইজার।

9\. কাঁচি।

10\. একবার ব্যবহারযোগ্য গ্লাভস।

11\. তাৎক্ষণিক ঠান্ডা সেঁক দেওয়ার প্যাক।

12\. জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য ফয়েল কম্বল।

13\. চোখ পরিষ্কারের স্যালাইন বা আই ওয়াশ।

14\. প্রাথমিক চিকিৎসার নির্দেশিকা ও জরুরি যোগাযোগের নম্বর।

15\. সিপিআর দেওয়ার সময় ব্যবহারের ফেস শিল্ড।

এর পাশাপাশি বাড়িতে সাত ধরনের সাধারণ ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন জেসন মারফি।

প্রয়োজনীয় সাতটি ওষুধ ও সামগ্রী হলোঃ

1\. প্যারাসিটামল।

2\. আইবুপ্রোফেন—যাদের জন্য উপযুক্ত।

3\. অ্যালার্জির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন।

4\. ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, যেমন লোপেরামাইড।

5\. খাবার স্যালাইন বা ওরাল রিহাইড্রেশন সল্টস।

6\. বদহজম ও বুকজ্বালার ওষুধ।

7\. শরীরের তাপমাত্রা মাপার থার্মোমিটার।

ফার্মাসিস্ট আরও সতর্ক করেছেন, যারা নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের ওষুধ ব্যবহার করেন, তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে হাঁপানির ইনহেলার, মারাত্মক অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এপিপেন এবং ডায়াবেটিসের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ রাখলেই হবে না। অতিরিক্ত ব্লাড সুগার পরীক্ষার স্ট্রিপ, সেন্সর এবং নিয়মিত ব্যবহৃত অন্যান্য সরঞ্জামও প্রস্তুত রাখতে হবে। ইনসুলিন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হয় বলে বিদ্যুৎ চলে গেলে কীভাবে তা ঠান্ডা রাখা হবে, সেই পরিকল্পনাও আগে থেকে করতে বলেছেন তিনি।

এদিকে, ব্রিটিশ সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধের পুনরায় সরবরাহ বা রিপিট প্রেসক্রিপশন প্রয়োজনের অন্তত পাঁচ কর্মদিবস আগে চেয়ে নেওয়া উচিত। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।

জেসন মারফি বলেছেন, জরুরি প্রস্তুতি মানেই বিপুল পরিমাণ ওষুধ কিনে ঘর ভরে ফেলা নয়। বরং পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাই ভালো। পাশাপাশি ওষুধ ও জীবাণুমুক্ত ড্রেসিংয়ের মেয়াদ ছয় মাস পরপর পরীক্ষা করে মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য দাতব্য সংস্থা সমাজের জন্য কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন হতে

যুক্তরাজ্যে বর্ডার ফোর্স কর্তৃক ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে গ্রেফতারের পর এক ব্যক্তির মৃত্যু

যুক্তরাজ্যে চাকরির বাইরে ৭ লাখের বেশি স্নাতক ডিগ্রিধারী