ব্রিটেনে উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যার কারণে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা (পিআইপি) গ্রহণকারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ১৬ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগজনিত সমস্যার কারণে প্রতিবন্ধিতা-সংক্রান্ত ভাতা গ্রহণের এই চিত্র উঠে এসেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে উদ্বেগজনিত রোগকে প্রধান স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ দুই বছর ধরে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা (পিআইপি) গ্রহণ করছেন এমন মানুষের সংখ্যা গত জুলাইয়ের শেষে ছিল ২৪ হাজার ৬৮১ জন।
যুক্তরাজ্যের কর্ম ও পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদ সংস্থা প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (পিএ) জানিয়েছে, এই ভাতাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৭ হাজার ৪০৩ জন, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ভাতাপ্রাপকের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৪৫ জন, যা প্রায় ২২ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিসংখ্যানে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনিত সমস্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্যানিক ডিসঅর্ডার ও সামাজিক পরিস্থিতিতে তীব্র উদ্বেগ বা ভীতির মতো সমস্যাও রয়েছে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেড বোর্ডম্যান সংবাদ সংস্থা পিএ-কে বলেন, সরকারি পরিসংখ্যানে যেভাবে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে না। অনেক মানুষের একই সঙ্গে একাধিক অক্ষমতাসৃষ্টিকারী সমস্যা থাকতে পারে, যার মধ্যে মানসিক ও শারীরিক—দুই ধরনের উপসর্গই রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রকাশিত রোগনির্ণয়-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সামগ্রিক পরিস্থিতি বুঝতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য এতে উঠে আসে না। ফলে এসব তথ্য মানুষের প্রকৃত সমস্যার আংশিক চিত্র তুলে ধরে এবং কখনো কখনো বিভ্রান্তিকরও হতে পারে।
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা বা পিআইপি হলো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা কিংবা প্রতিবন্ধিতার কারণে দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত ব্যয় সামলাতে সহায়তার জন্য ব্রিটেনে দেওয়া একটি ভাতা। ২০১৩ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের আমলে এই ভাতা চালু করা হয়।
১৬ বছর বয়স থেকে এ ভাতার জন্য আবেদন করা যায়। চাকরি করা, সঞ্চয় থাকা কিংবা অন্য কোনো ভাতা গ্রহণ করা—এসব কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পিআইপি পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যান না। তবে ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট শর্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া রয়েছে।
এমন সময়ে নতুন পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, যখন ব্রিটেনে প্রতিবন্ধিতা-সংক্রান্ত ভাতা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্যার স্টিফেন টিমসের নেতৃত্বে পরিচালিত পর্যালোচনায় পিআইপি ব্যবস্থাকে ‘উদ্দেশ্য পূরণে অকার্যকর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই পর্যালোচনায় পরিবর্তনশীল উপসর্গ, বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না এমন অসুস্থতা এবং একাধিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে আসে।
এদিকে তরুণদের কর্মসংস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে প্রকাশিত একটি অন্তর্বর্তী পর্যালোচনায় বলা হয়েছিল, ব্রিটেনে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রতি আটজনে একজন কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে।
প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের জবাবে ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পিআইপি গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে ভাতাপ্রাপকের সংখ্যা ৪ লাখ বেড়েছিল; ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে এই বৃদ্ধি কমে ২ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টিমস পর্যালোচনার প্রতিবেদনে পিআইপি ব্যবস্থাকে আর উদ্দেশ্য পূরণে উপযুক্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যালোচনার চূড়ান্ত সুপারিশগুলো ভাতা ব্যবস্থার টেকসই সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করবে।
সরকার জানিয়েছে, স্কুল, কলেজ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায়ও বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো, সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়েই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এমকে

