14.5 C
London
August 21, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভারতে ধর্মবিদ্বেষের উত্তাপের মাঝে মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দীপকঃ এবার পাচ্ছেন শান্তি পুরস্কার

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ধর্মীয় উত্তেজনার এক ঘটনার মধ্যে মুসলিম বৃদ্ধ দোকানদারের পাশে দাঁড়িয়ে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা দীপক কুমার এবার শান্তি পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। ‘মোহাম্মদ দীপক’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘রহমত-এ-আলম শান্তি পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দৈনিক ইনকিলাব।

ঘটনাটি ঘটে উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বারে। ২৬ জানুয়ারি একটি মুসলিম বৃদ্ধ দোকানদারকে তার দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার জন্য একদল ব্যক্তি চাপ দিচ্ছিলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তিদের বজরং দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দোকানদারের দাবি ছিল, তার দোকানটি প্রায় ৩০ বছর ধরে একই নামে চলছে।

বিতর্কের কেন্দ্র ছিল দোকানের নাম ‘বাবা স্কুল গার্মেন্টস’। অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ছিল, ‘বাবা’ শব্দটি স্থানীয় সিদ্ধবলী বাবা মন্দিরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় একজন মুসলিম দোকানদারের ব্যবসার নামে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এ নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।

সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন স্থানীয় জিম মালিক দীপক কুমার। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে তিনি বৃদ্ধ দোকানদারের পক্ষে দাঁড়ান এবং প্রশ্ন তোলেন—একটি দোকান প্রায় ৩০ বছর ধরে একই নামে চলার পর এখন কেন নাম পরিবর্তন করতে হবে। তার হস্তক্ষেপের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা দীপকের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার নাম মোহাম্মদ দীপক।’ পরে দীপক ব্যাখ্যা করেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজের নামের সঙ্গে ‘মোহাম্মদ’ যুক্ত করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন—মানুষের পরিচয়কে ধর্মের বিভাজনে আটকে রাখা উচিত নয় এবং সবাই একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারে।

এই একটি বাক্যই দীপককে রাতারাতি জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, ঘটনার পর তাকে ঘিরে প্রতিবাদ, হুমকি এবং আইনি জটিলতাও তৈরি হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এ ঘটনায় একাধিক মামলা হয় এবং দীপক নিজেও পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

পরবর্তীতে ঘটনাটির কারণে দীপকের ব্যবসায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। ভারত টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার জিমে আগে প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়মিত আসতেন; ঘটনার পর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১২ থেকে ১৫ জনে নেমে যায়।

তবে বিতর্ক ও চাপের মধ্যেও দীপক নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। তিনি বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি কোনো অনুশোচনা করেন না। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, তিনি নিজেকে প্রথমত একজন মানুষ হিসেবে দেখেন এবং মানবিকতাকেই গুরুত্ব দেন।

এবার সেই ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে ‘রহমত-এ-আলম শান্তি পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিখিল ভারত বজম-এ-রহমত-এ-আলম এ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে এবং পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দীপকের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় যারা ভূমিকা রাখেন, তাদের সম্মান জানাতেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দীপকের ক্ষেত্রে একজন মুসলিম বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ানো এবং ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবতার বার্তা দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

দীপকের ঘটনা তাই শুধু একজন ব্যক্তির সাহসিকতার গল্প নয়; বরং ধর্মীয় বিভাজন ও বিদ্বেষের আবহের মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোর একটি আলোচিত দৃষ্টান্ত। তার ‘মোহাম্মদ দীপক’ পরিচয় এখন ভারতে ধর্মীয় বিভাজনের বিপরীতে ঐক্য ও সহাবস্থানের প্রতীক হিসেবেও আলোচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

টাইমস ম্যাগাজিনের বিশ্বসেরা ছবির তালিকায় বাংলাদেশি আসাদের ছবি

নিউজ ডেস্ক

ইরানে ফের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

সহিংসতায় বিধ্বস্ত মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ