যুক্তরাজ্যে আশ্রয় ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক গোপন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে পূর্ব লন্ডনে পরিচালিত অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ইমিগ্রেশন পরামর্শদাতা আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে থাকার উদ্দেশ্যে নিজেকে সমকামী হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল শেখাচ্ছিলেন।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অপরাধ ও আর্থিক তদন্ত বিভাগ পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—ইমিগ্রেশন ও আশ্রয় আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ইমিগ্রেশন সেবা প্রদান। একই সঙ্গে বিশোর্ধ্ব এক যুবককে জালিয়াতির সন্দেহে আটক করা হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, যেসব অভিবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, তাদেরকে ভুয়া প্রমাণ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছিল। এসব প্রমাণের মধ্যে ছিল সাজানো সমর্থনপত্র, ছবি এবং বিভিন্ন নথি, যা আশ্রয় আবেদনে ব্যবহার করা হয়।
গোপনে ধারণ করা এক অনুষ্ঠানে দেখা যায়, যা এলজিবিটি আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি স্বীকার করেন, উপস্থিত অনেকেই প্রকৃতপক্ষে সমকামী নন, বরং আশ্রয় পাওয়ার জন্য এমন পরিচয় ব্যবহার করছেন।
এই ঘটনার পরপরই স্বরাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা দেয় এবং পরবর্তীতে অভিযানে নামে।
ইমিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী মাইক ট্যাপ অভিযানের সময় উপস্থিত থেকে বলেন, “এ ধরনের প্রতারণামূলক পরামর্শ প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে। যারা এমন কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা তাদের জন্য, যারা সত্যিকারের নির্যাতন ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু যারা এটিকে অপব্যবহার করতে চায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র ক্রিস ফিলপ মন্তব্য করেন, কয়েকটি গ্রেপ্তার মূল সমস্যার সমাধান নয়। তার মতে, আশ্রয় ব্যবস্থার ভেতরে বিদ্যমান প্রণোদনাই এ ধরনের প্রতারণাকে উৎসাহিত করছে।
অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি ন্যায়সঙ্গত, নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর আশ্রয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি সরকারের নীতির অসঙ্গতিকে দায়ী করে বলেন, এমন পরিস্থিতিই অসাধু চক্র গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করছে।
রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলটির স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ বলেন, ভুয়া আশ্রয় দাবিতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার দেরি করেছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের দ্রুত বহিষ্কার করা উচিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাটি শুধু একটি প্রতারণা চক্রের বিষয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা, নীতি ও নজরদারির উপর বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে এটি প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

