TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ম্যাকসুইনির পদত্যাগ, ম্যান্ডেলসন নিয়োগে স্টারমারকে পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ দায় স্বীকার

পিটার ম্যান্ডেলসনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই ইস্যুর দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করেছেন।

 

নিজের পদত্যাগপত্রে ম্যাকসুইনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত লেবার পার্টি, দেশ এবং রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়োগের পরামর্শ তিনিই দিয়েছিলেন এবং সেই পরামর্শের পূর্ণ দায় তিনি নিচ্ছেন।

ম্যাকসুইনি বলেন, জনজীবনে দায়িত্ব তখনই গ্রহণ করতে হয়, যখন তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—শুধু সুবিধাজনক সময় নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্মানের একমাত্র পথ হিসেবে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমালোচনার মুখে পড়লেও তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুত একটি লেবার সরকার গড়ে তোলা। তিনি দাবি করেন, সেই লক্ষ্য থেকেই তিনি প্রতিদিন কাজ করে গেছেন এবং সরকারের অর্জন নিয়ে তার গর্ব রয়েছে, যদিও বিদায়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে রয়েছে গভীর অনুশোচনা।

ম্যাকসুইনি তার চিঠিতে জেফ্রি এপস্টাইনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও কিশোরীদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাদের জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত ছিল—এ বিষয়টি রাষ্ট্র ও সমাজের মনে রাখা উচিত।

যাচাই–বাছাই ও ভেটিং প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। যদিও তিনি সরাসরি ওই প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে ছিলেন না, তবুও তার মতে এই ব্যবস্থাকে মৌলিকভাবে সংস্কার করা জরুরি। এটি যেন কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ না হয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা হয়—এমন আহ্বান জানান তিনি।

পদত্যাগের পরও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন ম্যাকসুইনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন আস্থা পুনর্গঠন, নৈতিক মানদণ্ড ফিরিয়ে আনা এবং দেশের সেবা করতে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্য পূরণে ভবিষ্যতেও তিনি যেকোনোভাবে সমর্থন দিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ভূমিধস বিজয়ের অন্যতম রূপকার হিসেবে পরিচিত ম্যাকসুইনির এই পদত্যাগ লেবার সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ম্যান্ডেলসন নিয়োগ ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অভ্যন্তরীণ যাচাই ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন ত্যাগে পিছিয়ে গেলো স্যু গ্রের রিপোর্ট প্রকাশ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে শীতকালীন সহায়তা পেতে ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন ৯ লাখের বেশি পেনশনার

ইংল্যান্ডের কর্ণার শপে বিক্রি হচ্ছে মাদক গ্যাস