14.4 C
London
October 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টের কাছে ভয়াবহ আগুনে ১৪০ গাড়ি ধ্বংস

যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের কাছে একটি গাড়ি পার্কিং ও শিল্প এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৪০টি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। শনিবার রাতে পশ্চিম সাসেক্সের রোয়ান্টের ক্যালডাইন বিজনেস পার্কে ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের ২ হাজারের বেশি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হয়। ঘটনায় অগ্নিসংযোগের সন্দেহে ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে তদন্ত চলাকালে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার ২২ আগস্ট রাত ৯টার কিছু পর ওয়ালেজ লেনের শিল্প এলাকায় আগুনের খবর পায় জরুরি পরিষেবা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ছবিতে বিশাল অগ্নিশিখা ও ঘন কালো ধোঁয়া আকাশ ঢেকে ফেলতে দেখা যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আটটি ফায়ার ইঞ্জিন ও দুটি পানিবাহী গাড়ি মোতায়েন করা হয়। দমকলকর্মীরা রাতভর কাজ করেন এবং সোমবারও ঘটনাস্থলে থেকে আগুনের অবশিষ্ট উত্তপ্ত অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজ চালান।

ওয়েস্ট সাসেক্স ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনে আনুমানিক ১৪০টি যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি ওয়ার্কশপ, বৈদ্যুতিক ও ভারী পণ্যবাহী যান এবং বিভিন্ন ধরনের সিলিন্ডারও ছিল। এসব কারণে আগুনটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ক্যালডাইন বিজনেস পার্কের একটি অংশ গ্যাটউইক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের গাড়ি রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। ছুটিতে যাওয়ার সময় অনেক যাত্রী সেখানে গাড়ি রেখে বিমানবন্দরে যেতেন। ফলে আগুনে ধ্বংস হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে বহু গাড়ি ছিল ছুটিতে যাওয়া যাত্রীদের।

অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগে পড়েছেন এসব গাড়ির মালিকরা। পার্কিং প্রতিষ্ঠান স্যাফায়ার পার্কিংয়ের মাধ্যমে গাড়ি রেখে যাওয়া কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন, তারা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের গাড়ির অবস্থা জানতে পারছেন না। ফলে দেশে ফিরে কেউ কেউ জানতে পারছেন না তাদের গাড়ি আগুনে ধ্বংস হয়েছে কি না।

স্যাফায়ার পার্কিং গ্রাহকদের জানিয়েছে, পুলিশ ও দমকল বাহিনী নিরাপত্তাজনিত কারণে বর্তমানে এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। আগুনের পর সেখানে কোনো বিপজ্জনক বস্তু বা ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান অবশিষ্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই কম্পাউন্ডে প্রবেশ করা যাবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার পর গাড়িগুলোর অবস্থা মূল্যায়ন করে গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণে শুধু গাড়ির মালিকরাই নয়, স্থানীয় ব্যবসাগুলোও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ওই এলাকায় পরিচালিত কেএল অটোমোটিভ নামে একটি গাড়ি উদ্ধার ও মেরামত ব্যবসাও আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কয়েক বছরের পরিশ্রম এক রাতের আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।

আগুন মোকাবিলার সময় উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্ককে আশপাশের ২ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়। নিরাপত্তার জন্য কাছাকাছি কয়েকটি সড়কও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সময় আশপাশের বাসিন্দাদের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষকেও এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়। সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে আগুনের কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সাসেক্স পুলিশ ও দমকল কর্তৃপক্ষ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। অগ্নিসংযোগের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা ৬৭ বছর বয়সী ব্যক্তিকে পরে জামিন দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় কারও কাছে তথ্য থাকলে তা তদন্তকারীদের জানাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদেরও সংশ্লিষ্ট পার্কিং অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আগুনের উৎস ও দায় নির্ধারণের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

গাড়ির ক্ষতির জন্য কোন পক্ষ দায়ী হবে, তা আগুন কোথা থেকে শুরু হয়েছিল তার ওপর নির্ভর করবে। কোনো গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির বীমা বিবেচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে ভবনের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, চার্জিং পয়েন্ট বা স্থায়ী অবকাঠামোর ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত প্রমাণিত হলে স্থাপনা পরিচালনাকারী পক্ষের দায় তৈরি হতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রেও আগুন ব্যাটারি, অন্য কোনো যন্ত্রাংশ নাকি চার্জিং অবকাঠামো থেকে শুরু হয়েছিল, তা তদন্তে নির্ধারণ করতে হবে।

গ্যাটউইক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য ঘটনাটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ছুটিতে যাওয়ার আগে ওই এলাকায় গাড়ি রেখে গিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই দেশে ফিরে নিজেদের গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসা ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং আগুনের প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টানতে শুরু হয়েছে নানা প্রচারণা

আন্তর্জাতিক আইন মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যুক্তরাজ্যেরঃ ইসিএইচআর

যুক্তরাজ্যে নারীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

অনলাইন ডেস্ক