TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের নতুন আশ্রয় নীতিতে বাড়তে পারে বিশৃঙ্খলা ও গৃহহীনতাঃ রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। কিন্তু জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তর (NAO) সতর্ক করেছে যে এই পরিবর্তনগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হলে গৃহহীনতা বাড়তে পারে এবং বিদ্যমান মামলা জট আরও গভীর হতে পারে। স্বাধীন সংস্থাটির মতে, আশ্রয়ব্যবস্থার বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করতে হলে বাধাগুলো শনাক্ত ও সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পমেয়াদি ও প্রতিক্রিয়াশীল নীতিমালার কারণে আশ্রয়ব্যবস্থায় চাপ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরে গিয়েছে এবং নতুন নতুন জট তৈরি হয়েছে। এর ফলে বহু আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন বছরের পর বছর অনির্দিষ্ট অবস্থায় ঝুলে আছে। প্রায় তিন বছর আগে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের অর্ধেকেরও বেশি এখনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ড্যানমার্কের কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করে প্রস্তাবিত নতুন পরিবর্তনগুলো লেবার পার্টির ভেতর থেকেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের বাবা–মায়ের সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব এবং স্থায়ী আবাসনের জন্য অপেক্ষার সময় ৫ বছর থেকে ২০ বছর করা—লেবার এমপি ও লর্ডদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।

NAO বলেছে, সরকারের প্রস্তাবগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত ও অপসারণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করতে পারে, তবে পুরো ব্যবস্থাটি অত্যন্ত জটিল এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল। বর্তমানে হোম অফিস কতজন আশ্রয়প্রার্থী কোনো রাষ্ট্রীয় সহায়তা ছাড়া আছেন, কতজন পলাতক, কিংবা কতজনকে আইনগত পদক্ষেপের আওতায় আনা হয়েছে—এসব মৌলিক তথ্যও সম্পূর্ণভাবে জানে না।

ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ও উচ্চতর অভিবাসন আদালতে জমা হওয়া মোট মামলার সংখ্যা বা কতবার পুনরায় আপিল হয়—তা জানাতে সক্ষম হয়নি। সামগ্রিকভাবে ২০২৪–২৫ সালে আশ্রয়ব্যবস্থায় ব্যয় দাঁড়াবে ৪.৯ বিলিয়ন পাউন্ড, যার মধ্যে ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ডই ব্যয় হবে আবাসন ও আর্থিক সহায়তায়।

NAO সুপারিশ করেছে যে ২০২৬ সালের মধ্যে সরকারকে সংসদে নতুন আশ্রয় মডেলের কৌশলগত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে এবং আশ্রয়প্রার্থী, করদাতা ও নাগরিকদের জন্য একীভূত “সিস্টেম সূচক” প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ডেটা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি, খরচ–সুবিধা বিশ্লেষণ এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থাও জরুরি।

রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন বলেছেন, দীর্ঘ অপেক্ষা, দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাড়তি ব্যয়—সব মিলিয়ে আশ্রয়ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চলছে না। তার মতে, সঠিক ও সময়মতো সিদ্ধান্ত এবং পর্যাপ্ত সক্ষমতা ছাড়া ব্যবস্থা সংস্কার সম্ভব নয়।

হোম অফিস দাবি করেছে যে তারা ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে—যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার অবৈধ বাসিন্দাকে অপসারণ, অবৈধ কর্মসংস্থানের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩% বৃদ্ধি এবং এ বছর ২১ হাজারের বেশি ছোট নৌকা পারাপারের প্রচেষ্টা ঠেকানো।

বিভাগটির মতে, নতুন সংস্কার যুক্তরাজ্যের আশ্রয়ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে, অবৈধ প্রবেশের প্রলোভন কমাবে এবং যাদের দেশে থাকার অধিকার নেই তাদের প্রত্যাবাসন বাড়াবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ডুলউইচ কলেজে বর্ণবাদ বিতর্কঃ নাইজাল ফারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে কলেজ প্রশাসন

লন্ডনে হঠাৎ বন্যা, টানেলে ট্রেন চলাচল বন্ধ

যুক্তরাজ্যে অস্থায়ী ভিসা নিয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের পক্ষে যুগান্তকারী রায়