15.2 C
London
September 8, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে অভিবাসী সংকটের বিস্ফোরণ—রাস্তা অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌযানে অভিবাসন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা প্রায় ১২০ জন অভিবাসীকে বহনকারী রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশনের (আরএনএলআই) লাইফবোটকে তীরে ভেড়ানোর অনুরোধ পোর্টসমাউথ হারবার ও সাউদাম্পটন—দুই বন্দর কর্তৃপক্ষই প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত হ্যাম্পশায়ারের ইস্টনিতে তাদের তীরে নামানো হলে সেখানে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে।

ঘটনাটি ঘটে রোববার। আইল অব ওয়াইটের কাছে ব্রিটিশ জলসীমায় প্রায় ১২০ জনকে বহনকারী একটি নৌযান পৌঁছালে এইচএম কোস্টগার্ডের নির্দেশনায় আরএনএলআই তাদের উদ্ধার করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটি প্রচলিত ছোট নৌকা পারাপারের রুটের তুলনায় অনেক পশ্চিমে এসে পৌঁছেছিল। এরপর উদ্ধার করা ব্যক্তিদের ইস্টনি মেরিনার দিকে নেওয়া হয়।

তবে তাদের তীরে নামানোর আগে পোর্টসমাউথ হারবারে প্রবেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। একইভাবে সাউদাম্পটন বন্দরও তাদের গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। সাউদাম্পটন বন্দর পরিচালনাকারী অ্যাসোসিয়েটেড ব্রিটিশ পোর্টস (এবিপি) জানিয়েছে, সাউদাম্পটন ঘটনাস্থলের সবচেয়ে কাছের বন্দর ছিল না এবং সেখানে উদ্ধার করা অভিবাসীদের গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত সুবিধাও ছিল না।

পোর্টসমাউথের কিংস হারবার মাস্টারও কোস্টগার্ডের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন বলে বিবিসির বরাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অপারেশনাল কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শেষ পর্যন্ত ইস্টনিতে অভিবাসীদের নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জায়গাটি ছিল একটি সরু উপদ্বীপ, যেখানে যাতায়াতের প্রধানত একটি রাস্তা রয়েছে। ফলে তীরে নামানোর পর তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা কোচগুলোকে বিক্ষোভকারীরা আটকে দিলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে ২০০-র বেশি বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়। তাদের অনেকেই কালো পোশাক ও মুখোশ পরা ছিল। অভিবাসীদের প্রক্রিয়াকরণের জন্য নিয়ে যাওয়ার কথা থাকা কোচগুলোকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছত্রভঙ্গের নির্দেশ জারি করে।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশ ও সরকারি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও উঠে এসেছে। ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার তীব্রতা নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডকে ‘ভীতিপ্রদর্শনমূলক ও দাঙ্গাবাজসুলভ আচরণ’ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলও ইস্টনিকে অভিবাসীদের নামানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে মনে করেনি। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেখানে তীরে নামানোর সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের এলাকায় অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ল্যাংস্টোন হারবারের হারবার মাস্টার বিলি জনসন বলেছেন, ঘটনাটি একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ছিল এবং ইস্টনিতে উদ্ধারকারী নৌযানগুলোকে তীরে আসতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেননি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, বিক্ষোভের কারণে জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

আরএনএলআই জানিয়েছে, তাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন এবং উদ্ধারকাজে মানুষের পরিচয় বা অভিবাসন-অবস্থা বিবেচনা করা হয় না। সংস্থাটি জানিয়েছে, লাইফবোটগুলোকে বন্দরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে তারা আলোচনা করছে। উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়েও তারা হতাশা প্রকাশ করেছে।

ঘটনার সময় পুলিশ, বর্ডার ফোর্স, কোস্টগার্ড, আরএনএলআই, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসসহ একাধিক জরুরি সেবা সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে। হারবার মাস্টার বিলি জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া কার্যকর ছিল, তবে বিক্ষোভকারীদের কর্মকাণ্ডে উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

এদিকে পোর্টসমাউথের ঘটনার আগের দিন ডোভারে একই ধরনের অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ হয়। সেখানে শত শত মুখোশধারী ব্যক্তি বন্দর এলাকার সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি করে। পরপর দুই দিনে গুরুত্বপূর্ণ দুই বন্দর এলাকায় এমন বিক্ষোভ যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যুকে ঘিরে বাড়তে থাকা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের হোম অফিসমন্ত্রী সারাহ জোনস জানিয়েছেন, ঘটনাগুলো থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নেওয়া হবে। বিশেষ করে কেন ইস্টনিকে অভিবাসীদের নামানোর স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে সম্ভাব্য জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় তীরে নামানো অভিবাসীদের পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পারাপার এবং অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

রিফর্ম পার্টির প্রেসিডেন্ট নাইজেল ফ্যারেজের নির্বাচন না করার ঘোষণা

গৃহহীন লোকেদের জন্য নতুন তহবিল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজের ঘোষণা সাদিক খানের

যুক্তরাজ্যে ধরপাকড়ে সিলেটে উদ্বেগ, কাজ হারাচ্ছেন অনেকে