ম্যানচেস্টারের অল্ডহ্যামের একটি শান্ত আবাসিক এলাকায় দুটি কথিত পতিতালয়কে কেন্দ্র করে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত অপরিচিত পুরুষদের যাতায়াত, রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং ভুল করে অন্যের বাড়িতে ঢুকে পড়ার মতো ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুটি ভবন তিন মাসের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে এবং পতিতাবৃত্তি-সংক্রান্ত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বাসিন্দা ড্যারেন হল জানান, তিনি প্রতিদিন ভোর চারটার দিকে কাজে বের হন এবং সেই সময়ও ওই ভবনগুলোতে পুরুষদের আসা-যাওয়া দেখতে পেতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন একজন ব্যক্তি ভুলবশত তার বাড়ির মূল দরজা দিয়ে ঢুকে পড়েন, কারণ তিনি সেটিকে কথিত পতিতালয় ভেবেছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় অনেক সময় এমন নারীদের দেখা যেত যাদের তারা যৌনকর্মী বলে সন্দেহ করতেন। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ রাস্তা দিয়ে ঘুরতে থাকা পুরুষদের ইশারা করে ডাকতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ব্যস্ত হয়ে উঠত এবং বিভিন্ন গাড়ি এসে থামত বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
ড্যারেন হল আরও দাবি করেন, যে ভবনটি পরে কথিত পতিতালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেটি আগে গাঁজার খামার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে একজন প্রতিবেশী ইতোমধ্যে বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
তবে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা যেসব নারীকে দেখেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তারা ভদ্র ও বন্ধুসুলভ ছিলেন। একই সঙ্গে তাদের আশঙ্কা, ওই নারীদের কেউ কেউ শোষণের শিকার হয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়ে থাকতে পারেন।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানিয়েছে, অল্ডহ্যামের বালফোর স্ট্রিট ও মিরিয়াম স্ট্রিটের দুটি ভবনের বিরুদ্ধে আদালত থেকে তিন মাসের ক্লোজার অর্ডার নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ভবনগুলোতে প্রবেশ করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অল্ডহ্যাম সাউথ অ্যান্ড ওয়েস্ট এলাকার নেবারহুড ইনস্পেক্টর অ্যামি হোয়াইটহেড বলেন, কমিউনিটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহের পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার মতে, দিন-রাত মানুষের ভিড়, প্রতিবেশী বাড়ির সামনে অপেক্ষা এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড স্থানীয়দের জীবনমানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল।
সূত্রঃ ম্যানচেস্টার ইভিনিং নিউজ
এম.কে

