যুক্তরাজ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে পাসপোর্ট যাচাইয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা পাসপোর্ট মেশিনে স্ক্যান না করেই বিমানবন্দরের ই-গেট পার হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে যাত্রীর পরিচয় যাচাই করা হবে মুখের ছবি শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সাহায্যে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকো ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই প্রযুক্তি চালু করা হবে। গ্যাটউইক, হিথ্রো ও ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরের ই-গেটগুলোতে এই প্রযুক্তি চালু বা হালনাগাদ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় প্রথম পর্যায়ে ব্রিটিশ নাগরিকেরা সুবিধা পাবেন। বর্তমানে ই-গেট ব্যবহারের যোগ্য অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও পর্যায়ক্রমে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
যেসব বিমানবন্দরে চালু হবে নতুন প্রযুক্তিঃ
যুক্তরাজ্যের মোট ১২টি বিমানবন্দরে ধাপে ধাপে ই-গেটের নতুন প্রযুক্তি চালুর কথা বলা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো—
* বার্মিংহাম
* ব্রিস্টল
* কার্ডিফ
* ইস্ট মিডল্যান্ডস
* এডিনবরা
* গ্যাটউইক
* গ্লাসগো
* হিথ্রো
* লন্ডন সিটি
* লুটন
* নিউক্যাসল
* স্ট্যানস্টেড
এই প্রযুক্তির ফলে সীমান্তে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হতে পারে। তবে সব বিমানবন্দরে একই সময়ে এই সুবিধা চালু হবে না।
পাসপোর্ট সঙ্গে রাখা কেন জরুরি?
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক লাগেজ পরিবহন প্রতিষ্ঠান মাই ব্যাগেজের প্রতিষ্ঠাতা পল স্টুয়ার্ট যাত্রীদের সতর্ক করে বলেছেন, পাসপোর্ট স্ক্যান না করার সুবিধাকে পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা উঠে যাওয়ার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট এখনও প্রয়োজন হবে। বিমানবন্দরে ওঠার আগে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোও যাত্রীদের ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করবে। এ ছাড়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সময় অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের জন্য যাত্রীদের পাসপোর্ট দেখাতে বলা হতে পারে।
এ কারণে যাত্রীদের পাসপোর্ট চেক করা লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে নিরাপদে ও সহজে বের করা যায়, এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাসপোর্টের মেয়াদ ও ভ্রমণবিধিতে কি পরিবর্তন আসছে?
নতুন প্রযুক্তি চালু হলেও পাসপোর্টের মেয়াদসংক্রান্ত নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসছে না। যাত্রীদের গন্তব্য দেশের প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ যথেষ্ট আছে কি না, তা ভ্রমণের আগে নিশ্চিত হতে হবে।
পল স্টুয়ার্টের মতে, প্রযুক্তির উন্নয়ন ভ্রমণকে সহজ করতে পারে, কিন্তু সঠিক ও বৈধ নথিপত্র প্রস্তুত রাখার দায়িত্ব যাত্রীরই। ছুটি কাটানো, ব্যবসায়িক সফর কিংবা অন্য দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা—সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়াতে সহায়ক হবে।
সূত্রঃ দ্য ইকো
এমকে

