TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে নতুন চমকঃ অনিশ্চয়তার মাঝেও বড় সিদ্ধান্ত শাবানা মাহমুদের

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আবারও অভিবাসন ও আশ্রয়নীতি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এবার তিনি শরণার্থীদের জন্য একটি নতুন ‘নিরাপদ ও বৈধ’ স্পনসরশিপ ভিত্তিক প্রবেশপথ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শরৎ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি সংগঠন, গির্জা এবং পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আনার জন্য স্পনসর হতে পারবে।

তবে এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে শাবানা মাহমুদের নিজের অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নিজের জুনিয়র মন্ত্রী মাইক ট্যাপকে অপসারণের অনুরোধ করলেও প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তা প্রত্যাখ্যান করেন, যা তার রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

নতুন পরিকল্পনার ব্যাখ্যায় শাবানা মাহমুদ বলেন, প্রকৃত যুদ্ধ ও নির্যাতনের শিকার শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করাই সরকারের লক্ষ্য। তার ভাষায়, ব্রিটেন মানবিক আশ্রয়ের ঐতিহ্য বজায় রাখবে, তবে সেই ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত, ন্যায্য এবং জনআস্থাসম্পন্ন হতে হবে।

সরকার জানিয়েছে, এই কর্মসূচি কানাডার কমিউনিটি স্পনসরশিপ মডেলের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে। আবেদনকারীদের যোগ্যতা নির্ধারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে এবং যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে কঠোর নিরাপত্তা ও পটভূমি যাচাই করা হবে। স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলো শরণার্থীদের বাসস্থান, কর্মসংস্থান এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করবে।

এছাড়া আগামী বছর নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য আলাদা কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রবেশপথ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আবেদন এ বছরের শেষ দিকে শুরু হবে এবং প্রথম শরণার্থীরা ২০২৭ সালে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছে সরকার।

তবে নতুন বৈধ পথ চালুর পাশাপাশি আশ্রয় আইনে কঠোরতাও বাড়ানো হচ্ছে। মানবাধিকার আইনে পারিবারিক জীবনের অধিকার সংক্রান্ত বিধান সীমিত করা, আধুনিক দাসত্ববিরোধী আইনের সুরক্ষা পাওয়ার শর্ত কঠোর করা এবং ভুয়া আশ্রয় আবেদন দমনে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, অবৈধ অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো মানবিক প্রবেশপথ চালু করা উচিত নয়। তাদের মতে, এই উদ্যোগ ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ বন্ধ করতে পারবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কঠোর অভিবাসন নীতি, অন্যদিকে নতুন বৈধ প্রবেশপথ চালুর ঘোষণা—শাবানা মাহমুদের নীতিকে দ্বিমুখী হিসেবে দেখছেন অনেকে। এর মধ্যেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলায় নতুন এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন শেষ পর্যন্ত কতদূর এগোবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রিন্স অ্যান্ড্রুর যৌন নিপীড়ন মামলার নিষ্পত্তি

ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিক্ষোভ করায় এনএইচএস কর্মীদের কর্মস্থলে নিষিদ্ধ ঘোষণা

লন্ডনে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ৪০% কমেছেঃ ‘ইউলেজ’ নীতির সাফল্যের দাবি সাদিক খানের