যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালে আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত আপিলের বকেয়া মামলা ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সর্বশেষ ত্রৈমাসিক পরিসংখ্যানে নতুন আপিল দায়েরের সংখ্যা কমার পাশাপাশি নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা বাড়ায় দীর্ঘদিনের এই জট ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত এপ্রিল থেকে জুন ২০২৬ সময়ের সরকারি ত্রৈমাসিক ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনাল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ইমিগ্রেশন আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্ট জানায়, আশ্রয় আপিলের বকেয়া সংখ্যা আগের ত্রৈমাসিকের ৮৭ হাজার ৪৫০টি থেকে বেড়ে ৯০ হাজার ৩৪১টিতে দাঁড়িয়েছে।
তবে আগের কয়েকটি ত্রৈমাসিকের তুলনায় বকেয়া মামলার বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আপিলের জট স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন আশ্রয় আপিল দায়েরের সংখ্যা বা ‘রিসিপ্টস’ আগের ত্রৈমাসিকের ১৪ হাজার ৭৪৯টি থেকে কমে ১১ হাজার ৫৯৬টিতে নেমেছে। ফ্রি মুভমেন্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর একটি কারণ হলো হোম অফিস আগের তুলনায় কমসংখ্যক প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্ত দিচ্ছে।
অন্যদিকে আশ্রয় আপিলের নিষ্পত্তি বা ‘ডিসপোজাল’-এর সংখ্যা বেড়েছে। আগের ত্রৈমাসিকে যেখানে ৭ হাজার ৭৮৯টি আপিল নিষ্পত্তি হয়েছিল, এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে তা বেড়ে ৮ হাজার ৭০৯টিতে পৌঁছেছে।
‘ডিসপোজাল’ বলতে কোনো আপিলের কার্যক্রম কোনোভাবে শেষ হওয়াকে বোঝানো হয়। বিচারকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কোনো আপিল শেষ হতে পারে। আবার আপিল অবৈধ হওয়া, বাতিল হওয়া কিংবা কোনো পক্ষ তা প্রত্যাহার করলেও সেটি নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, নিষ্পত্তি হওয়া আশ্রয় আপিলের ৩৭ শতাংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফ্রি মুভমেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব প্রত্যাহারের বড় একটি অংশ হোম অফিসের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কোনো আশ্রয় প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল হওয়ার পর হোম অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে আগের সিদ্ধান্তটি ট্রাইব্যুনালে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে, তাহলে সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরপর অনেক ক্ষেত্রে হোম অফিস নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আশ্রয়ের অনুমতি দেয়। কিছু ক্ষেত্রে নতুন ও অতিরিক্ত কারণ দেখিয়ে প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত আবারও দেওয়া হতে পারে।
ফ্রি মুভমেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ইমিগ্রেশন ব্যারিস্টার কলিন ইয়ো লিখেছেন, প্রথম ধাপেই হোম অফিসের সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল হলে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ কমত এবং হোম অফিসের কাজের চাপও কমে যেত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৭ শতাংশ আপিল শুনানির আগে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট আপিলগুলোর ৩৯ শতাংশ অনুমোদিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কলিন ইয়ো মন্তব্য করেছেন, প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্তের বড় একটি অংশ পরবর্তী পর্যায়ে পরিবর্তিত হচ্ছে।
এদিকে আশ্রয় আপিল নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের মাধ্যমে আশ্রয় আপিলের সিদ্ধান্ত আগের ত্রৈমাসিকের ৪ হাজার ৮৭টি থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৮২৮টিতে দাঁড়িয়েছে।
ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপার ট্রাইব্যুনালে আপিল করা যায়। ফলে এসব সিদ্ধান্ত সবসময় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় না। তবে সিদ্ধান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা বাড়ার একটি সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সক্ষমতা কেন বেড়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। অতিরিক্ত সম্পদ, কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ অথবা আশ্রয় আপিল নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর হওয়া নতুন আইনগত সময়সীমা—এসব কারণের যেকোনোটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে ফ্রি মুভমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
চলতি বছরে যুক্তরাজ্যে নতুন আশ্রয় আবেদনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে ট্রাইব্যুনালে নতুন মামলার চাপ কমেছে। একই সময়ে হোম অফিসের প্রাথমিক সিদ্ধান্তের বকেয়া মামলাও কমেছে।
এর পাশাপাশি আশ্রয় আপিলের মূল সিদ্ধান্তের সংখ্যা বেড়েছে এবং হোম অফিস আগের কিছু প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করছে। এসব কারণ একসঙ্গে আশ্রয় আপিলের বকেয়া মামলা কমার সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে ফ্রি মুভমেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
তবে আশ্রয় আপিলের মোট বকেয়া মামলা এখনো ৯০ হাজার ৩৪১টি। ফলে দীর্ঘদিনের এই জট পুরোপুরি শেষ হয়নি। সর্বশেষ পরিসংখ্যান মূলত বকেয়া মামলার বৃদ্ধির গতি কমে আসা এবং নিষ্পত্তির সক্ষমতা বাড়ার চিত্র তুলে ধরছে।
ফ্রি মুভমেন্ট-এর বিশ্লেষক কলিন ইয়োর মতে, পরবর্তী ত্রৈমাসিকে আশ্রয় আপিলের আটকে থাকা মামলা কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বহু বছর পর প্রথমবারের মতো মামলা কমার প্রবণতা দেখা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

