18.3 C
London
August 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন খারিজে একবারই আপিলঃ শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনায় চাপে সরকার

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে নিজ দল লেবারের এমপিদের তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তার প্রস্তাবিত সংস্কারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আবেদনকারীদের একাধিকবার আপিল করে সিদ্ধান্ত বিলম্বিত করার সুযোগ সীমিত করা।

শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনার মূল যুক্তি হলো—আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর বারবার আপিলের সুযোগের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হয়। সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মাধ্যমে আপিল প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও দ্রুত করার পাশাপাশি যাদের সব আইনি আপিল শেষ হয়ে গেছে, তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেই তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। দলের বামপন্থী অংশের এমপিদের একাংশের আশঙ্কা, আপিলের সুযোগ সীমিত হলে প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ কমে যেতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকজন লেবার এমপি সংস্কারকে কঠোর ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

শুধু আপিল ব্যবস্থাই নয়, শাবানা মাহমুদের সামগ্রিক অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্কার নিয়ে লেবারের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে। প্রস্তাবিত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম বিল ২০২৬-এ অভিবাসন আপিল পুনর্গঠন, মানবাধিকার আইনের আওতায় কিছু দাবির সীমাবদ্ধতা, আশ্রয় সহায়তা ও মর্যাদা সংক্রান্ত পরিবর্তন এবং আধুনিক দাসত্ব আইনের কাঠামো সংশোধনের মতো বিষয় রয়েছে।

সংসদে বিলটির দ্বিতীয় পাঠে শাবানা মাহমুদ যুক্তি দিয়েছেন, আগের সরকারের সময়ে আশ্রয় ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল অবস্থায় ছিল এবং ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আগমন ও আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় করদাতাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, বর্তমান সরকার সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার কাজ করছে।

সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও আশ্রয় ব্যবস্থায় কিছুটা চাপ কমার চিত্র দেখাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ কমে প্রায় ৮৬ হাজারে নেমেছে। একই সময়ে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাও এক বছরের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে ১৬ হাজার ২১ জন হয়েছে।

সরকার এই পরিসংখ্যানকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের সুযোগ সংকুচিত করে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হলে ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যালান জনসন শাবানা মাহমুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি তাকে সংস্কার নিয়ে বিরোধিতাকারী লেবার এমপিদের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন। জনসনের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে লেবারের অবস্থান সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

অ্যালান জনসন সতর্ক করেছেন, অভিবাসন ইস্যুতে দলের ভেতরের বিরোধিতাকারীদের কথাই যদি সরকার বেশি গুরুত্ব দেয়, তাহলে রাজনৈতিকভাবে লেবারের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, জনমতকে উপেক্ষা করে অভিবাসন নীতিতে অতিরিক্ত নমনীয় অবস্থান নেওয়া দলটির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে লেবারের বামপন্থী এমপিরা মনে করছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলেও আশ্রয়প্রার্থীদের মানবিক ও আইনি সুরক্ষা দুর্বল করা উচিত নয়। প্রায় ৮০ জন লেবার এমপি এর আগে অভিবাসন সংস্কারের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং আরও মানবিক পদ্ধতির আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ফলে শাবানা মাহমুদের সামনে এখন দ্বিমুখী রাজনৈতিক চাপ। একদিকে সরকারকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয় ব্যবস্থার ব্যাকলগ কমানো এবং দ্রুত প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে; অন্যদিকে নিজের দলের এমপিদের একটি অংশ মানবাধিকার ও আশ্রয়প্রার্থীদের আপিলের অধিকার নিয়ে কঠোর অবস্থানের বিরোধিতা করছে।

সূত্রঃ এওএল/দ্য টেলিগ্রাফ\গভ.ইউকে

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বাড়ল কর-ছাড়ঃ অতিরিক্ত ৩ হাজার ২৫০ পাউন্ডের সুবিধা

অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ‘ইনোভেটিভ পার্টনারশিপের’ পরিকল্পনায় ইটালি-ব্রিটেন

যুক্তরাজ্যের চ্যানেল সংকট আরও গভীরঃ ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন