24.3 C
London
June 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ট্যাক্সি সেবায় নতুন যুগের সূচনাঃ উদ্বিগ্ন ব্ল্যাক ক্যাব ও প্রাইভেট হায়ার চালকরা

বিশ্বের অন্যতম আধুনিক চালকবিহীন যানবাহন প্রযুক্তি এবার প্রবেশ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে। মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় ‘রোবোট্যাক্সি’ সেবা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লন্ডনের সড়কে পরীক্ষামূলক ও পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগকে নগর পরিবহনের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা, তবে একই সঙ্গে এটি ঐতিহ্যবাহী ট্যাক্সি ও প্রাইভেট হায়ার শিল্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

ওয়েমোর স্বয়ংচালিত গাড়িগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক ক্যামেরা, রাডার, লেজারভিত্তিক সেন্সর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সমন্বয়। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি নিজেই সড়কের অন্যান্য যানবাহন, পথচারী, ট্রাফিক সিগন্যাল, সাইকেল আরোহী, পুলিশ সদস্য কিংবা জরুরি সেবার যানবাহনের সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম। কোম্পানির দাবি, মানুষের তুলনায় দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শহরে ওয়েমোর গাড়িগুলো প্রতি সপ্তাহে লক্ষাধিক যাত্রী পরিবহন করছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন ভবিষ্যতে পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে যাতায়াত ব্যয়ও কমিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে।

তবে লন্ডনে এই প্রযুক্তির আগমনকে ঘিরে বিতর্কও তীব্র হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী ব্ল্যাক ক্যাব চালকদের সংগঠন এবং প্রাইভেট হায়ার শিল্পের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, চালকবিহীন ট্যাক্সি সেবা সম্প্রসারিত হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিভিন্ন শিল্পসংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বৃহত্তর লন্ডন এলাকায় বর্তমানে প্রায় দেড় লাখেরও বেশি প্রাইভেট হায়ার চালক এবং হাজার হাজার লাইসেন্সধারী ব্ল্যাক ক্যাব চালক জীবিকার জন্য এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।

চালক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে এমন একটি ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে যা ধীরে ধীরে মানবশ্রমকে প্রতিস্থাপন করবে। তারা বলছেন, লন্ডনের ট্যাক্সি চালকদের দীর্ঘ প্রশিক্ষণ, সড়কজ্ঞান এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে রাজধানীর জটিল সড়কব্যবস্থা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবচালকের ভূমিকা এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের সমর্থকরা বলছেন, স্বয়ংচালিত যানবাহন নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে। সফটওয়্যার উন্নয়ন, রিমোট মনিটরিং, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন চাকরির বাজার তৈরি হতে পারে।

পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনে রোবোট্যাক্সি চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিরাপত্তা ও জনআস্থা অর্জন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরাপত্তা মানদণ্ড আরও কঠোর করেছে।

যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে স্বয়ংচালিত যানবাহন প্রযুক্তির জন্য পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা নগর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে।

তবে আপাতত লন্ডনের রাস্তায় রোবোট্যাক্সির আগমনকে ঘিরে দুটি ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে। একদিকে এটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নতুন মাইলফলক, অন্যদিকে হাজার হাজার চালকের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। ফলে স্বয়ংচালিত ট্যাক্সির সফলতা শুধু প্রযুক্তির ওপর নয়, জনআস্থা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় সরকারের নীতির ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করবে।

সূত্রঃ সিবিএস নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: এ মাসের শেষে ভারী তুষারপাতের আশংকা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের এসাইলাম আইনে বড় পরিবর্তনঃ লর্ড ডাবস বললেন ‘এটি লজ্জাজনক’

ব্রিটেনের রানির থেকেও ধনী অর্থমন্ত্রীর স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক