TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কেমি ব্যাডেনকের সামনে কঠিন ১২ মাসঃ বার্নহামের জনপ্রিয়তা ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনকের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য আগামী ১২ মাসকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বাড়লেও দলীয় অবস্থান এখনও দুর্বল। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের নেতৃত্বে লেবারের সম্ভাব্য পুনরুত্থান এবং রিফর্ম ইউকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা মোকাবিলা করাই এখন ব্যাডেনকের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার সরকারের পতনের পর অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ব্যাডেনকের প্রধান লক্ষ্য হবে ভোটারদের কাছে বার্নহাম সরকারের বিকল্প হিসেবে কনজারভেটিভ পার্টিকে প্রতিষ্ঠা করা।

সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে কেমি ব্যাডেনকের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছর আগে যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ মানুষ তাকে ইতিবাচকভাবে দেখতেন, বর্তমানে প্রতি তিনজনের একজন তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। তবে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বাড়লেও তা এখনও দলীয় সমর্থনে প্রতিফলিত হয়নি।

ইউগভের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, কনজারভেটিভ পার্টির ভোটের হার ২০ শতাংশ। একই সময়ে লেবারের সমর্থন ২১ শতাংশ এবং রিফর্ম ইউকের সমর্থন ২৩ শতাংশ। ফলে কনজারভেটিভরা এখনও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাডেনকের সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জনপ্রিয়তা মোকাবিলা করা। বার্নহাম দীর্ঘদিন ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জনসংযোগে দক্ষ একজন রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তার ইতিবাচক জনমত ভবিষ্যতে লেবারের জন্য বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া উত্তর ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যগত শ্রমিকশ্রেণির ভোটারদের কাছে কনজারভেটিভদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখাও ব্যাডেনকের জন্য কঠিন কাজ হবে। বিশেষ করে ‘রেড ওয়াল’ এলাকায় লেবার ও রিফর্ম ইউকের সঙ্গে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার ও মেয়র নির্বাচন কনজারভেটিভদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠবে। ওই নির্বাচনের ফলাফল থেকেই বোঝা যাবে রিফর্ম ইউকের উত্থান সাময়িক নাকি স্থায়ী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের জনপ্রিয়তারও প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, কনজারভেটিভদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের অনেক কর্মী ও সমর্থক রিফর্ম ইউকের দিকে ঝুঁকেছেন। নির্বাচনের আগে সেই সাংগঠনিক ভিত্তি পুনরুদ্ধার করা ব্যাডেনকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিও আগামী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। লিজ ট্রাস সরকারের সময়ের অর্থনৈতিক অস্থিরতার পর কনজারভেটিভদের অর্থনৈতিক দক্ষতা নিয়ে জনমনে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে ব্যাডেনককে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলোতে কার্যকর বিকল্প নীতি তুলে ধরতে হবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী এক বছরের রাজনৈতিক লড়াই শুধু কেমি ব্যাডেনকের নেতৃত্বের জন্য নয়, বরং ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনাও অনেকাংশে নির্ধারণ করবে। যদি তিনি দলকে জনসমর্থনের শীর্ষে নিয়ে যেতে পারেন, তবে কনজারভেটিভদের জন্য নতুন আশা তৈরি হবে। আর তা না হলে দলটির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

পূর্ব লন্ডনে ডাবল ডেকার দুর্ঘটনায় শিশুসহ ১৯ জনের বেশি আহত

অনলাইন ডেস্ক

ট্যাক্স বিতর্কের মধ্যেই ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়লেন রিশি সুনাকের পরিবার

প্রত্যাশিত আচরণবিধিকে আবারো ‘উপহাস’ করলেন বরিস জনসন!

অনলাইন ডেস্ক