TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে চিকিৎসা সঙ্কটে ব্রিটিশরা, বিদেশই একমাত্র ভরসা

যুক্তরাজ্যের ওয়েম্বলির একটি অভিবাসী হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এনএইচএস-এর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে যাচ্ছে সরাসরি তাদের দোরগোড়ায়, অথচ স্থানীয় ব্রিটিশ নাগরিকদের চিকিৎসা পেতে বিদেশে যেতে হচ্ছে। এই বৈষম্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় দোকানদার মালা পওয়ার জানান, ওয়েম্বলির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও সরকারের ব্যর্থ নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা আজ চরম সংকটে। তিনি এনএইচএস-এর দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে বার্ষিক স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়মিত ভারত যান।

তার এক সহকর্মী, যিনি ইংল্যান্ডেই জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন, বিদেশে ছুটি কাটানোর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করিয়ে এসেছেন। মালা জানান, তার স্বামীর শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথার মতো সমস্যার জন্যও সময়মতো সেবা মেলেনি।

ওয়েম্বলির একটি বড় হোটেলে প্রায় ৪০০ অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে হোম অফিস। এটি ব্রিটেনজুড়ে ব্যবহৃত ২০০টির বেশি হোটেলের একটি, যেগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব হোটেল ২০২৯ সালের মধ্যে বন্ধ করা হবে, তবে জাতীয় নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ততদিনে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড।

হোটেলে থাকা অভিবাসীরা পাচ্ছেন বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা। এমনকি এনএইচএস-এর একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ দল সেখানে গিয়ে যক্ষ্মা ও সংক্রামক রোগের পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছে।

তুর্কি-কুর্দি অভিবাসী হিলমি আভজি জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন এবং একটি অস্ত্রোপচারের তারিখও নির্ধারিত হয়েছে। অপর এক ইথিওপিয়ান আশ্রয়প্রার্থী জানান, তিনি স্থানীয় ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ভ্রাম্যমাণ ভ্যানেও বুকের পরীক্ষা করিয়েছেন।

তবে অনেক স্থানীয় দোকানদার ও বাসিন্দা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে আবেদন ঝুলে থাকায় অভিবাসীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে এবং কেউ কেউ অশোভন আচরণ করছে। তারা দিনভর হোটেলে বসে থেকে হতাশ হয়ে পড়ছে, যা স্থানীয় জনজীবনে প্রভাব ফেলছে।

সরকার নতুন স্বাস্থ্য পরিকল্পনার আওতায় এনএইচএস-এর সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে রয়েছে আরও চিকিৎসক নিয়োগ এবং ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা।

এনএইচএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকল রোগীর চিকিৎসা প্রয়োজন ও অপেক্ষার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, কারও অভিবাসন অবস্থান সে বিষয়ে কোনো প্রভাব ফেলে না।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যখন নিজের দেশে বসবাসকারীদের সেবা পেতে বিদেশে যেতে হয়, তখন কীভাবে অভিবাসীরা ঘরে বসেই বিশেষ চিকিৎসা পান? এই প্রশ্ন এখন দিনকে দিন আরও তীব্র হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে
১০ জুলাই ২০২৫

আরো পড়ুন

লন্ডনে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ সমর্থনে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৪৬৬

যুক্তরাজ্যের ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা

ব্রিটেনের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তাঃ এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান প্রকল্পে কাটছাঁটের আশঙ্কা