যুক্তরাজ্যের চেশায়ার অঞ্চলের ক্রু শহরে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত বড় ধরনের পুলিশ অভিযানে যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক বিয়ে এবং আধুনিক দাসত্বের অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে অংশ নেয় ৫০০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চেশায়ার পুলিশ জানায়, ‘আহমাদি রিলিজিয়ন অব পিস অ্যান্ড লাইট (আরপল)’ নামের একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গত মাসে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব অভিযোগের ঘটনার সময়কাল ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের তিনটি ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, অভিযোগগুলো মূলত এক নারী ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্কিত, যিনি ঘটনাকালে ওই গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ক্রুতে গোষ্ঠীটির প্রায় ১৫০ জন সদস্য অবস্থান করছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। তাদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ইতালি, স্পেন, সুইডেন, মিশর ও যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক বিয়ে এবং আধুনিক দাসত্বের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া পৃথকভাবে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আরও ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে, যা মূল তদন্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
বুধবার সকাল প্রায় ৯টার আগে শুরু হওয়া অভিযানে ক্রু শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। কিং জর্জ পঞ্চম খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকা, ভিক্টোরিয়া অ্যাভিনিউ এবং কুইন্স পার্কের আশপাশে সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে ন্যান্টউইচ রোড এলাকাতেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ তিনটি ভবনে তল্লাশি চালিয়েছে, যার মধ্যে ‘ওয়েব হাউস’ নামে একটি ভবন রয়েছে, যা গোষ্ঠীটির সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
চেশায়ার ইস্ট কাউন্সিলের এক মুখপাত্র জানান, স্থানচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
অভিযানে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপোলও অংশ নেয়। আয়ারল্যান্ড ও সুইডেন থেকে আগত কর্মকর্তারাও ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন।
চেশায়ার পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট গ্যারেথ রিগলি বলেন, “এটি একটি দীর্ঘ ও বিস্তারিত তদন্তের ফল। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত নয়, বরং নির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগের তদন্ত।”
তিনি আরও বলেন, “যৌন নিপীড়নের প্রতিটি অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, ক্রু ও ন্যান্টউইচ এলাকার সংসদ সদস্য কনর নেসমিথ বলেন, এমন বড় অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করা স্বাভাবিক। তবে তিনি পুলিশের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে।”
পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে কথা বলার সময় তিনি ও তার দল হয়রানি ও ভীতিপ্রদর্শনের শিকার হয়েছেন।
এই ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ আরও তথ্য সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

