যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সরকারি দলের ভেতরেই এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জোরালো বিরোধিতা দেখা দেওয়ায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আশা নিয়ে অপেক্ষায় থাকা লাখো অভিবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে ১০ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন। তিনি চান, এই পরিবর্তন ২০২১ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে আসা বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হোক। তার দাবি, ডেনমার্কের অভিবাসন নীতিকে অনুসরণ করেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেই তীব্র আপত্তি দেখা দিয়েছে। সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারসহ শতাধিক সাংসদ একটি যৌথ চিঠিতে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। রেইনার এ প্রস্তাবকে “ব্রিটিশ মূল্যবোধের পরিপন্থী” বলে মন্তব্য করেছেন এবং অভিবাসীদের প্রতি এটি অন্যায় আচরণ হবে বলে মত দিয়েছেন।
এদিকে, শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাওয়া অ্যান্ডি বার্নহ্যামও এ বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থানে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এর আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, অপেক্ষার সময় ১০ বছর করা হলে অভিবাসীরা দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন এবং ব্রিটিশ সমাজে তাদের স্বাভাবিকভাবে একীভূত হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভিসা সংস্কারের ফলে প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি কর্মী যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। এই সময়ের অভিবাসন প্রবাহকে অনেকেই “বরিসওয়েভ” নামে অভিহিত করছেন।
অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকে দাবি করেছে, যদি এই ১৬ লাখ অভিবাসী বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান, তাহলে করদাতাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ৩০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের চাপ পড়তে পারে। দলটির হিসাব অনুযায়ী, এর অর্থ প্রতিটি ব্রিটিশ পরিবারের জন্য গড়ে প্রায় এক হাজার ১০০ পাউন্ড ব্যয়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর একজন অভিবাসী সময়সীমাহীনভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ, পড়াশোনা এবং সরকারি নির্ধারিত বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পান। পাশাপাশি এটি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের আবেদন করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি “লাখো মানুষকে আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন”—এমন দাবি সঠিক নয়। তার মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পর তার সরকারের প্রথম বছরে গত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন অভিবাসন রেকর্ড হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী বসবাসের সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব নিয়ে সরকারি দলের ভেতরে যে বিরোধিতা তৈরি হয়েছে, তা সরকারের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে প্রস্তাবটি সংশোধন, স্থগিত বা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান পাঁচ বছরের নিয়ম বহাল থাকার আশা করছেন অনেক অভিবাসী এবং সংশ্লিষ্ট মহল।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

