যুক্তরাজ্যের নটিংহামশায়ারের একটি পার্কে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণের দায়ে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এক আশ্রয়প্রার্থীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মুক্তির পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে লাইসেন্সের আওতায় পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম শেরাড মালিক (২৬)। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুন মাসে নটিংহামশায়ারের সাটন লন পার্কে ভয়াবহ এই ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভুক্তভোগী তরুণী অত্যন্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তার শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মালিক তার ওপর যৌন হামলা চালায়।
বিচারিক কার্যক্রমে উঠে আসে, হামলার সময় তরুণী প্রতিরোধের চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাকে মুখমণ্ডল ও মাথায় একাধিকবার আঘাত করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী চরম মানসিক আঘাতের শিকার হন এবং তার জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে।
মামলার শুনানিতে বিচারক বলেন, এই অপরাধ ছিল অত্যন্ত গুরুতর এবং এতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসহায় অবস্থার সুযোগ নেওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধের জন্য কোনো ধরনের অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বরং বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তার আচরণে ক্ষোভ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রবণতা দেখা গেছে।
বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, মালিকের মধ্যে নারীদের প্রতি গভীর অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গি ও বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে, যা তাকে সমাজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিতে পরিণত করেছে।
তদন্তে জানা যায়, পাকিস্তানের নাগরিক শেরাড মালিক ইউরোপের বিভিন্ন দেশ হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। সে প্রথমে ফ্রান্সে যায়, এরপর জার্মানি ও ইতালি অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয়ের আবেদন করে। ঘটনার সময় তার আশ্রয়প্রার্থীর মর্যাদা বহাল ছিল।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলেন, ভুক্তভোগীর সাহসিকতার কারণেই অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়েছে। তারা যৌন সহিংসতার শিকার অন্যদেরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
যুক্তরাজ্যে যৌন সহিংসতার ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও, মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক চাপ, মানসিক ট্রমা কিংবা বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধীর পরিচয় বা অভিবাসন-অবস্থা যাই হোক না কেন, যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অসহায় অবস্থায় থাকা ব্যক্তির প্রতি যৌন সহিংসতা এবং বলপ্রয়োগের মতো অপরাধকে কোনোভাবেই সহনশীলতার চোখে দেখা হবে না। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নটিও নতুন করে সামনে এসেছে।
সূত্রঃ আইটিভি এক্স
এম.কে

