যুক্তরাজ্যে মানুষের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নতুন এক উদ্যোগ নিয়ে আসছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস)। আগামী জানুয়ারি থেকে চালু হতে যাওয়া নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট হাঁটতে পারলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটার ভাউচার, মূল্যছাড় এবং অন্যান্য পুরস্কার পাবেন।
‘মুভমেন্ট ২৬ দশমিক ২’ নামে এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসে উৎসাহিত করা। প্রতিদিন ২০ মিনিট হাঁটলে এক মাসে মোট ২৬ দশমিক ২ মাইল পথ অতিক্রম করা সম্ভব, যা একটি পূর্ণ ম্যারাথনের সমান দূরত্ব।
অলিম্পিক পদকজয়ী ও ‘গ্রেট নর্থ রান’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ব্রেন্ডন ফস্টার এবং ‘এয়ার মাইলস’-এর উদ্ভাবক স্যার কিথ মিলসের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগ সরকারের ১০ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনএইচএসের সমর্থন পাচ্ছে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা একটি নির্ধারিত মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে প্রতিদিনের হাঁটার তথ্য সংরক্ষণ করবেন। নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করলে তারা ডিজিটাল ব্যাজ, ধারাবাহিক অংশগ্রহণের স্বীকৃতি, পদক, টি-শার্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মূল্যছাড় এবং কেনাকাটার ভাউচার অর্জনের সুযোগ পাবেন।
এনএইচএস জানিয়েছে, সুপারমার্কেট, কফি শপ এবং বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার লয়্যালটি স্কিমের আদলে একটি ‘এনএইচএস পয়েন্টস স্কিম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা ব্যক্তিদের বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার দেওয়া হবে।
কর্মসূচিটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীসহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এতে অংশ নিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্যে ক্রমবর্ধমান অলস জীবনযাপন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রতিবছর এনএইচএসের প্রায় ১০০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় হয়, যার বড় অংশ হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের চিকিৎসায় খরচ হয়।
এদিকে গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা ৩০ মিনিটের বেশি সময় বসে থাকা ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন হাঁটা বা গৃহস্থালির কাজের মতো হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ডে অন্তত এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করলে ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ড করা উচিত। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের বিপুলসংখ্যক মানুষ এই ন্যূনতম লক্ষ্যও পূরণ করতে পারছেন না।
স্যার ব্রেন্ডন ফস্টার বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য মানুষকে কঠিন কোনো ব্যায়াম নয়, বরং সহজ ও বাস্তবসম্মত একটি অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করা। তাঁর ভাষায়, প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট হাঁটা অধিকাংশ মানুষের পক্ষেই সম্ভব এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী স্যার জিম ম্যাকি বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিয়মিত চলাফেরাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যই নয়, জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ মানুষকে আরও দীর্ঘ, সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনে উৎসাহিত করবে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

