14.5 C
London
August 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনি বৃদ্ধার ভিসা বাতিল করে বিপাকে হোম অফিসঃ আদালতের রায়ে নতুন মোড়

যুক্তরাজ্যে ভিজিট ভিসার আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মানবাধিকার দাবি প্রত্যাখ্যান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তপত্রে মানবাধিকার দাবি করা হয়নি বলা থাকলেও আবেদনের বিষয়বস্তু ও আবেদনকারীর বক্তব্য বিবেচনা করতে হবে।

ঘটনাটি গাজায় বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নারীকে ঘিরে। তিনি যুক্তরাজ্যে থাকা তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে দেখা করা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্র দপ্তর দাবি করে, এতে কোনো মানবাধিকার দাবি করা হয়নি।

ওই নারী তার আবেদনে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হলে যুক্তরাজ্যে থাকা মেয়ের সঙ্গে তার পারিবারিক জীবনে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ হবে।

বিষয়টি আদালতে গড়ালে আপিল আদালত নিশ্চিত করে যে, ওই নারী তার ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার রাখতেন। অর্থাৎ, স্বরাষ্ট্র দপ্তর সিদ্ধান্তপত্রে মানবাধিকার দাবি করা হয়নি বললেই বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায় না।

তবে শেষ পর্যন্ত ওই নারীর ভিসা আবেদন অনুমোদনের নির্দেশ দেয়নি আদালত। বরং আপিল আদালত মনে করেছে, তার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সম্পর্ককে পারিবারিক জীবন হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালত প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম মানদণ্ড প্রয়োগ করেছিল।

মামলাটিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ২০১৫ সালের ভিজিট ভিসা আবেদনে মানবাধিকার দাবি বিবেচনার নির্দেশনারও কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। আদালতের মতে, ওই নির্দেশনায় আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ওই নারী যুক্তরাজ্যে আসার জন্য ভিজিট ভিসার আবেদন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল ব্যক্তিগত চিকিৎসা নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মেয়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো।

আবেদনের সময় তিনি স্পষ্টভাবে মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ওপর নির্ভর করেন এবং বলেন, ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হলে তার পারিবারিক জীবনের অধিকারে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হস্তক্ষেপ হবে।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মানবাধিকার দাবি গ্রহণ করা হয়েছে কি না—তা শুধু স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তপত্রের ভাষার ওপর নির্ভর করবে না। আবেদনকারী কী বলেছেন এবং আবেদনের প্রকৃত বিষয় কী ছিল, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে এই রায়ের অর্থ এই নয় যে গাজা থেকে ভিজিট ভিসার আবেদন করলেই মানবাধিকার কারণে ভিসা পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে। আদালতের সিদ্ধান্তটি মূলত আবেদনটি মানবাধিকার দাবি হিসেবে বিবেচনার যোগ্যতা এবং তার বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার নিয়ে।

গাজায় বসবাসকারী ব্যক্তি ও তাদের যুক্তরাজ্যে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য রায়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পারিবারিক সম্পর্ক, চিকিৎসা এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয় ভিজিট ভিসার আবেদনে কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

হোটেল নির্ভরতা কমাতে সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর শুরু যুক্তরাজ্যে

ইউকেতে প্যারেন্টাল সুপারভিশনের নতুন টুল নিয়ে এসেছে ইনস্টাগ্রাম

যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি অভিবাসন কমানো বা বন্ধ চান ৪৭ শতাংশ ব্রিটিশঃ ইউগভের জরিপ