18.8 C
London
September 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তেজনাঃ মিছিল হতে গ্রেপ্তার ৩

ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে অভিবাসনবিরোধী ও বর্ণবাদবিরোধী পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৭৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন, যাকে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে রাখার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পোর্টসমাউথ শহরের কেন্দ্রস্থলে শনিবারের এই বিক্ষোভে দুই পক্ষের কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, নতুন ক্রাইম অ্যান্ড পুলিশিং অ্যাক্টের আওতায় বিক্ষোভে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কার্যকর হয়েছে, যাতে কোনো ব্যক্তির পরিচয় গোপন থাকে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে নতুন ক্ষমতা কার্যকর হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে নয়; বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সব পক্ষের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।

এদিন পোর্টসমাউথ শহরের কেন্দ্রস্থলে প্রথমে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। পরে স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম সংগঠনের সমর্থকেরা পাল্টা মিছিল করেন। দুই পক্ষই শেষ পর্যন্ত গিল্ডহল স্কয়ারের দিকে যায়। সেখানে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ তাদের আলাদা করে রাখে।

প্রায় ৫০০ অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী কমার্শিয়াল রোডের অল সেইন্টস চার্চের বাইরে জড়ো হন। তাদের অনেকে ইউনিয়ন ও সেন্ট জর্জ পতাকা বহন করেন। কিছু বিক্ষোভকারী পোর্টসমাউথ প্যাট্রিয়ট লেখা পোশাক পরেছিলেন। পরে তারা ‘স্টপ দ্য বোটস’ বা ‘নৌকা থামাও’ স্লোগান দিতে দিতে গিল্ডহল স্কয়ারের দিকে মিছিল করেন।

অন্যদিকে, প্রায় ৩০০ মানুষ বর্ণবাদবিরোধী পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন। পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শ পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়।

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, পোর্টসমাউথের ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে সড়ক চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও অপরাধমূলকভাবে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকেও সহিংস বিশৃঙ্খলায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। গত রোববার ইস্টনি মেরিনায় হওয়া একই ধরনের বিক্ষোভের সঙ্গে ওই কিশোরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর ইস্টনি মেরিনায় বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেদিন শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা আটকে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ডিঙি নৌকায় আসা ১২০ অভিবাসীকে বহনকারী কোচগুলোকে শহর থেকে বের হতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আগের সপ্তাহের বিশৃঙ্খলা সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে। হ্যাম্পশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, সে সময় তাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোস্টগার্ড ও বর্ডার ফোর্সের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে চিকিৎসা নিলেও গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর বিক্ষোভে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মুখ ঢেকে রাখার বিরুদ্ধে নতুন ক্ষমতা ব্যবহারের ঘোষণা দেয় পুলিশ। হ্যাম্পশায়ার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল পল বার্তোলোমিও বলেন, এই ক্ষমতা বিক্ষোভ বন্ধ করার জন্য নয়; অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যেকোনো দলের ক্ষেত্রেই ক্ষমতাটি সমান ও নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হবে।

হ্যাম্পশায়ার পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার ডোনা জোন্স বলেন, শনিবারের বিক্ষোভ বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছাড়াই শেষ হয়েছে। তিনি আগের বিক্ষোভে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা এবং পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম পোর্টসমাউথের সাইমন ম্যাগোরিয়ান বলেন, ইস্টনির আগের বিক্ষোভ ছিল একটি ‘ভয়াবহ দৃশ্য’। তিনি পোর্টসমাউথকে একটি বহুসাংস্কৃতিক শহর হিসেবে উল্লেখ করে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন।

অন্যদিকে, অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী পিট ডেভিস বলেন, তিনি ইস্টনির আগের বিক্ষোভেও অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ফ্রান্সে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো এবং অভিবাসীদের জন্য সরকারি সুবিধা ও আবাসন বন্ধ করার দাবি জানান।

আগের ঘটনাগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিবাসীদের তীরে পৌঁছাতে সহায়তা করা রয়্যাল ন্যাশনাল লাইফবোট ইনস্টিটিউশন বা আরএনএলআইয়ের স্বেচ্ছাসেবকেরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

পোর্টসমাউথের ঘটনাগুলোর আগে ডোভার বন্দরেও পৃথক একটি অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল। একই সময়ে স্ট্যাফোর্ডশায়ার পুলিশ ট্যামওয়ার্থে একটি বিক্ষোভে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেখানে ব্রিটেন ফার্স্ট ‘মার্চ ফর রিমিগ্রেশন’ নামে কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ট্যামওয়ার্থের কর্মসূচি কোনো ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় এবং সেখানে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এদিকে, নর্থাম্ব্রিয়া পুলিশও শনিবার নিউক্যাসল শহরের কেন্দ্রে একই ধরনের মুখ ঢাকা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখেছিল।

পোর্টসমাউথে নতুন বিক্ষোভের পর পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। তবে শনিবারের বিক্ষোভে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

পপলার আইসল্যান্ড শাখায় ইঁদুরের উপদ্রব: ৩ লাখ পাউন্ড জরিমানা আর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়ার পূর্বাভাস: এ মাসের শেষে ভারী তুষারপাতের আশংকা

অনলাইন ডেস্ক

বাড়তে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি’স