যুক্তরাজ্যে বাড়ি থেকে কাজ বা নমনীয়ভাবে কাজ করার অনুরোধ নিয়ে নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় কোনো কর্মীর ‘ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং’ আবেদন প্রত্যাখ্যান করার আগে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে হবে।
ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ডি বার্নহামের সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজসহ বিভিন্ন ধরনের নমনীয় কর্মপদ্ধতির সুযোগ বাড়ানো। চলতি সপ্তাহে ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট লুইস হেইগ বার্ষিক ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস বা টিইউসি-এর সম্মেলনে এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
লুইস হেইগ বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর বাড়ি থেকে কাজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে চান, তাহলে তাকে কর্মীর সঙ্গে বসে অনুরোধটি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। তিনি বলেন, সব ধরনের কাজ বাড়ি থেকে করা সম্ভব নয় এবং সব অনুরোধও অনুমোদন করা যাবে না। তবে প্রতিটি অনুরোধ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মীদের জীবনে সন্তানদের দেখাশোনা, বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়া কিংবা পরিবারের জরুরি দায়িত্ব পালনের মতো পরিস্থিতি থাকতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশে কিছুটা নমনীয়তা প্রয়োজন হতে পারে।
ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পল নাওয়াক বলেন, ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং শুধু অতিরিক্ত সুবিধা নয়, অনেক কর্মীর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। তার মতে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে কর্মীদের মতামত দেওয়ার সুযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
তবে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে কর্মীদের জন্য বাড়ি থেকে কাজ করার স্বয়ংক্রিয় আইনগত অধিকার নেই। বরং কর্মীদের প্রথম কর্মদিবস থেকেই ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের জন্য আবেদন করার আইনগত অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ কর্মী আবেদন করতে পারেন, কিন্তু আবেদন অনুমোদন করতেই হবে—এমন নিয়ম নেই।
বর্তমান নিয়মে একজন কর্মী যেকোনো ১২ মাসে সর্বোচ্চ দুটি স্ট্যাটিউটরি ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং আবেদন করতে পারেন। নিয়োগকর্তাকে সাধারণত আবেদন পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। আবেদন প্রত্যাখ্যান করার আগে নিয়োগকর্তাকে কর্মীর সঙ্গে আলোচনা করতে হয়।
বর্তমান আইনে নিয়োগকর্তারা নির্দিষ্ট আটটি ব্যবসায়িক কারণ দেখিয়ে ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ, বিদ্যমান কর্মীদের মধ্যে কাজ পুনর্বণ্টন করতে না পারা, নতুন কর্মী নিয়োগের অক্ষমতা, কাজের মান বা কর্মদক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব, গ্রাহকের চাহিদা পূরণে সমস্যা, প্রস্তাবিত সময়ে পর্যাপ্ত কাজ না থাকা এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় এই প্রক্রিয়ায় আরও একটি ‘রিজনেবলনেস টেস্ট’ বা যৌক্তিকতা যাচাই ব্যবস্থা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ২০২৭ সালে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় কোনো নিয়োগকর্তা কর্মীর ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে কেন সেই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক, তা ব্যাখ্যা করতে হবে।
প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় কোনো কর্মী মনে করলে তার আবেদন অযৌক্তিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তিনি এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করতে পারবেন। সরকারি প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল কর্মীর পক্ষে সিদ্ধান্ত দিলে নিয়োগকর্তাকে আবেদনটি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের মধ্যে শুধু বাড়ি থেকে কাজ নয়, কর্মঘণ্টা পরিবর্তন, কাজ শুরুর ও শেষ করার সময় পরিবর্তন, সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন কাজ করা, পার্টটাইম কাজ, কমপ্রেসড আওয়ারস, জব শেয়ারিং এবং হাইব্রিড ওয়ার্কের মতো ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
প্রতিবন্ধী কর্মীদের ক্ষেত্রেও বাড়ি থেকে কাজের অনুরোধ করার সুযোগ রয়েছে। ইকুয়ালিটি অ্যাক্ট ২০১০-এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিয়োগকর্তাকে প্রতিবন্ধী কর্মীর জন্য যুক্তিসংগত কর্মপরিবেশ বা রিজনেবল অ্যাডজাস্টমেন্ট করার দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
এ কারণে কোনো কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করতে চাইলে তিনি ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের স্ট্যাটিউটরি আবেদন করতে পারেন। আবার প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজন থাকলে রিজনেবল অ্যাডজাস্টমেন্টের জন্যও অনুরোধ করতে পারেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মীরা তাদের প্রতিষ্ঠান কী ধরনের বাড়ি থেকে বা হাইব্রিড কাজের ব্যবস্থা দেয়, তা জানতে ম্যানেজার, নিয়োগকর্তা অথবা এইচআর বিভাগ-এর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

