ইংল্যান্ডের নটিংহামের বুলওয়েল এলাকার হাই উড কবরস্থানে মুসলিম শিশুদের কয়েকটি কবর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রিয় সন্তানের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে নামফলক ভাঙা এবং স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট অবস্থায় দেখে অনেক অভিভাবক প্রথমে এটিকে ভাঙচুর বলে মনে করেন।
ঘটনাটি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠতে থাকে—যুক্তরাজ্যে মুসলিমরা কি কবরেও নিরাপদ নয়? বিশেষ করে শিশুদের কবর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আবেগ ও উদ্বেগের জন্ম দেয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর নটিংহামশায়ার পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালায়। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে কবরগুলোর ক্ষতি ইচ্ছাকৃতভাবে বা বিদ্বেষমূলকভাবে করা হয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনাটি ভাঙচুর নয় এবং এটি পরিকল্পিত হামলার ফল বলেও তারা মনে করছে না।
নটিংহাম সিটি কাউন্সিলও একই ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের কবরগুলো বহু বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল এবং সেখানে ব্যবহৃত অস্থায়ী নামফলকগুলো দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি ও আবহাওয়ার প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই কারণেই কিছু ফলক ভেঙে গেছে বা খুলে পড়েছে।
কাউন্সিলের শোকসেবা বিভাগ জানিয়েছে, পরিবারগুলো চাইলে পুরোনো অস্থায়ী ফলক সংরক্ষণ করতে পারবেন অথবা সরকারি অনুমোদিত স্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপনের বিকল্পও বেছে নিতে পারবেন। পাশাপাশি উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর সঙ্গে সংবেদনশীলতার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এই ঘটনার পর পুরোনো এক স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে। ২০১৫ সালে একই হাই উড কবরস্থানের মুসলিম অংশে ১০টিরও বেশি কবর ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। সে সময় ঘটনাটি ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হয় এবং নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল।
এদিকে ২০২৫ সালে লন্ডনের কাছে ওয়াটফোর্ডের একটি কবরস্থানে মুসলিম অংশে শিশুদের কবরসহ প্রায় ৮৫টি কবর ভাঙচুরের ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। সে ঘটনাটি ইসলামবিদ্বেষী ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হয়েছিল।
বর্তমান নটিংহাম ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ ইচ্ছাকৃত হামলার প্রমাণ না পেলেও, মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের মতে, শিশুদের কবর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য তাদের পুরোনো আতঙ্ককে আবারও উসকে দিয়েছে। তাই কবরস্থানে নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এবং পরিবারগুলো আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস
এম.কে

