গৃহনির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা জোরদার এবং সামাজিক আবাসন খাতের দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় নতুন আবাসন বিল উত্থাপন করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় সামাজিক আবাসনের মালিকরা গৃহনির্যাতনের অপরাধীদের সরাসরি উচ্ছেদ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সামাজিক আবাসন কেনার অধিকার সংক্রান্ত ‘রাইট টু বাই’ কর্মসূচিতে যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে।
সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে বিলটির দ্বিতীয় পাঠ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার বলছে, এই আইন সামাজিক আবাসনের দীর্ঘমেয়াদি অবক্ষয় রোধের পাশাপাশি গৃহনির্যাতনের শিকার ভাড়াটিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইংল্যান্ডে প্রায় ১৫ হাজার পরিবার গৃহনির্যাতনের কারণে নতুন সামাজিক আবাসনের সন্ধান করতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে কোনো নির্যাতনকারীকে উচ্ছেদ করতে হলে প্রায়ই ভুক্তভোগীকে আগে বাসা ছাড়তে হয়। যৌথ ভাড়াচুক্তির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ ভুক্তভোগীকে পুরো চুক্তি বাতিল করতে হয়, যা তাকে গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
নতুন বিলটি আইনে পরিণত হলে সামাজিক আবাসন কর্তৃপক্ষ নির্যাতনকারীকে বাসা থেকে অপসারণ করতে পারবে এবং আদালত যৌথ ভাড়াচুক্তি ভুক্তভোগীর একক নামে স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে পারবে। প্রয়োজন হলে ভুক্তভোগীর জন্য বিকল্প উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে।
এ ছাড়া বিলটি এমন একটি আইনি দুর্বলতা দূর করবে, যার মাধ্যমে কোনো নির্যাতনকারী নিজের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সময় যৌথ ভাড়াচুক্তি আগেভাগে বাতিল করে ভুক্তভোগীকে গৃহহীন করে দিতে পারত।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আমলে চালু হওয়া ‘রাইট টু বাই’ কর্মসূচিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি আবাসনের ভাড়াটিয়ারা তিন বছর বসবাসের পর সেই বাড়ি কেনার সুযোগ পান। নতুন আইনে এই সময়সীমা ১০ বছরে উন্নীত করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, নতুন নির্মিত সামাজিক আবাসন ৩৫ বছর পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের এমন আবাসন, যেগুলো সহজে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়, সেগুলোকেও বিক্রির বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর জন্যও নতুন ক্ষমতা যুক্ত করা হচ্ছে। তারা বিক্রি হয়ে যাওয়া সামাজিক আবাসন পুনরায় কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অগ্রাধিকার অধিকার পাবে, যাতে সরকারি আবাসনের সংখ্যা পুনরুদ্ধার করা যায়।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের হাউজিং অ্যান্ড প্ল্যানিং আইনের কিছু পুরোনো ও বাস্তবায়ন না হওয়া বিধান বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাউন্সিলকে উচ্চমূল্যের বাড়ি বিক্রির বাধ্যবাধকতা, নির্দিষ্ট মেয়াদের ভাড়াচুক্তি এবং বেশি আয়ের ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিধান।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, বহু পরিবার বছরের পর বছর অপেক্ষমাণ তালিকায় আটকে থেকেছে এবং অনেক গৃহনির্যাতনের শিকার ব্যক্তি নিজেদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কারণ নির্যাতনকারীকে উচ্ছেদ করার যথেষ্ট আইনি ক্ষমতা ছিল না। তিনি বলেন, সামাজিক আবাসনের ঘাটতি, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত নতুন আবাসন নির্মাণ না হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে গৃহনির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও আবাসন অধিকার আরও শক্তিশালী হবে এবং সামাজিক আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

