7.9 C
London
January 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ‘অতিদরিদ্র্য’, বিপাকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান কমিউনিটি

যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্যের হার গত তিন দশকের মধ্যে ভয়াবহতম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ‘অতিদারিদ্র্যের’ মধ্যে জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের (জেআরএফ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ‘অতিদরিদ্র’ বলতে মূলত সেই সব পরিবারকে বোঝানো হয়, যাদের আবাসন খরচ মেটানোর পর অবশিষ্ট আয় দেশটির মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশের চেয়েও কম। উদাহরণস্বরূপ, দুটি সন্তানসহ একটি দম্পতির ক্ষেত্রে এই আয়ের পরিমাণ বছরে আনুমানিক মাত্র ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড।

এই গবেষণার সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া দিক হলো দেশটিতে আশঙ্কাজনক হারে শিশুদারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়া। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা তিন বছর ধরে শিশুদারিদ্র্য বাড়তে থাকায় বর্তমান লেবার সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস ঘোষণা করেছেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর থাকা ‘দুই শিশুর সীমা’ বা টু-চাইল্ড ক্যাপ বাতিল করা হবে। ২০১৭ সালে কনজারভেটিভ সরকার এই সীমা আরোপ করেছিল, যার ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো তৃতীয় সন্তানের জন্য কোনো অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পেত না। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই দারিদ্র্যের প্রভাব অনেক বেশি প্রকট। বিশেষ করে বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলোর মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। জেআরএফের এই প্রতিবেদনকে ‘সমাজের জন্য অত্যন্ত খারাপ খবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দাতব্য সংস্থা বিগ ইস্যুর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড। তার মতে, আবাসন সংকট এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্রমশ খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

যদিও সরকার দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন সতর্ক করে বলেছে যে এটিই যথেষ্ট নয়। শিশুদারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ব্রিটিশ মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যেহেতু লন্ডন এবং উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বসবাস করেন, তাই মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি প্রভাব তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। যদি দ্রুত কার্যকর কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার না আনা হয়, তবে এই অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

বড় পতনের মুখে যুক্তরাজ্যের বাড়ির দাম

ব্রিটিশ সিটিজেনদের বিদেশি স্বামী-স্ত্রী আনার ক্ষেত্রে নমনীয় হতে যাচ্ছে সরকার

নতুন করে ফিরছে ইলেকট্রিক গাড়ির ভর্তুকিঃ সর্বোচ্চ £৩,৭৫০ ছাড়, কারা পাবেন সুবিধা?