গাড়ির বার্ষিক কর পরিশোধ না করার অভিযোগে লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকল লাইসেন্সিং এজেন্সি—ডিভিএলএ। সরকারি নথিতে ভুলভাবে একটি গাড়ির মালিক হিসেবে সাদিক খানের নাম ও জন্মতারিখ যুক্ত হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছিল।
৫৫ বছর বয়সী লেবার পার্টির রাজনীতিক সাদিক খান গত মাসে এই মামলায় অনুপস্থিতিতেই দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ ছিল, ২০০২ সালে প্রথম নিবন্ধিত একটি নীল রঙের নিসান মাইক্রার বার্ষিক রোড ট্যাক্স পরিশোধ করা হয়নি।
ডিভিএলএ’র তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির কর গত বছরের সেপ্টেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গাড়িটিকে রাস্তায় আনট্যাক্সড অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। সরকারি রেকর্ডে গাড়িটির নিবন্ধিত মালিক হিসেবে সাদিক খানের নাম থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিভিএলএ সাদিক খানের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। কিন্তু সেই চিঠি তার সঠিক ঠিকানায় না গিয়ে পূর্ব লন্ডনে একটি রেস্টুরেন্টের ঠিকানায় পৌঁছে যায়। ফলে মেয়রের কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে আদালতে মামলাটি গড়ালে সাদিক খান কোনো জবাব বা প্লি না দেওয়ায় তার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড আদালতের খরচ এবং ৩৫ পাউন্ড ৮৪ পেন্স বকেয়া গাড়ির কর পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
তবে পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে, ওই নিসান মাইক্রা গাড়িটি সাদিক খানের মালিকানাধীন নয়। ফলে মামলাটির ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন দেখা দেয় এবং ডিভিএলএ বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা শুরু করে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, মেয়রের নামে পাঠানো চিঠিগুলো পূর্ব লন্ডনে গর্ডন র্যামসের একটি রেস্টুরেন্টের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আরও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে, কারণ সাদিক খানের সঙ্গে গাড়িটির প্রকৃত মালিকানার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
মেয়রের একজন মুখপাত্র ঘটনাটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, এটি একটি অপরাধ এবং অতীতেও সাদিক খান এমন প্রতারণার শিকার হয়েছেন, যেখানে কোনো গাড়ির মালিক হিসেবে মিথ্যাভাবে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছিল।
মেয়রের একজন উপদেষ্টা বিবিসি লন্ডনকে জানিয়েছেন, ডিভিএলএ বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করছে। ভুলভাবে দায়ের হওয়া মামলাটি পুনরায় খুলে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিভিএলএও জানিয়েছে, মামলাটি প্রত্যাহারের বিষয়টি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি পুনরায় খুলে আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বৃহস্পতিবার হেরেফোর্ড ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে নির্ধারিত শুনানিতে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
একই সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর খুঁজছে ডিভিএলএ—কীভাবে সাদিক খানের নাম ও জন্মতারিখ এমন একটি গাড়ির সরকারি নিবন্ধনে যুক্ত হলো, যার মালিক তিনি নন।
ঘটনাটি শুধু একটি ভুল সরকারি নথির বিষয় নয়; বরং কারও পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি যানবাহন নিবন্ধনে তথ্য যুক্ত করা হয়েছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের আওতায় আসছে। ডিভিএলএ জানিয়েছে, গাড়িটির নিবন্ধনে সাদিক খানের তথ্য কীভাবে যুক্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হবে।
ফলে বর্তমানে মামলাটির মূল অভিযোগের পরিবর্তে সামনে এসেছে পরিচয় অপব্যবহার ও সরকারি নথিতে ভুল তথ্য প্রবেশের গুরুতর প্রশ্ন। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে মামলা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ডিভিএলএ’র তদন্তই নির্ধারণ করবে কীভাবে লন্ডনের মেয়রের নাম ২৪ বছরের পুরোনো ওই গাড়ির মালিক হিসেবে সরকারি রেকর্ডে উঠে এসেছিল।
সূত্রঃ বিবিসি \ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
এম.কে

