10 C
London
March 2, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শাবানা মাহমুদের অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়ে লেবারের ভেতরেই সমালোচনা

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরেই নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও হাউস অব লর্ডস সদস্য আলফ ডাবস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের কঠোর অভিবাসন সংস্কার অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে লেবারের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

পূর্ব ম্যানচেস্টারের গর্টন ও ডেন্টন আসনের উপনির্বাচনে হান্না স্পেন্সার নেতৃত্বাধীন গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস জয় লাভ করে দীর্ঘদিনের লেবার ঘাঁটিতে বড় ধাক্কা দেয়। প্রায় ১৩ হাজার ভোটের ব্যবধান উল্টে এই বিজয় অর্জিত হয়। নির্বাচনে লেবার প্রার্থী তৃতীয় অবস্থানে থাকেন এবং দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে রিফর্ম ইউকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান ঠেকাতে অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা লেবার পার্টির ঐতিহ্যগত বামঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি অভিযোগ করেন, লেবারের প্রস্তাবিত নীতি চরম ডানপন্থী রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং এটি ডেনমার্কের কঠোর অভিবাসন ব্যবস্থার আদলে তৈরি।

সরকার আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দলীয় সংসদ সদস্য ও শ্রমিক ইউনিয়নের আপত্তি সত্ত্বেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, সরকার এই সংস্কার বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে।

শৈশবে নাৎসি অধিকৃত ইউরোপ থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নেওয়া আলফ ডাবস বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অভিবাসন ইস্যুতে গ্রিন পার্টির অবস্থান তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত। তার মতে, উপনির্বাচনের ফলাফল লেবারের জন্য একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা হলেও সরকারের প্রতিক্রিয়া সেই অনুযায়ী হয়নি।

তিনি বিশেষভাবে শিশু শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গত বছর পারিবারিক পুনর্মিলন ভিসা স্থগিতের ফলে বহু শিশু তাদের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসরত নিকট আত্মীয় থাকলে বিদেশে অবস্থানরত শিশুদের আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। নাইজেল ফারাজ নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় গেলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল এবং বিপুলসংখ্যক অভিবাসী বহিষ্কারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে চাপ আরও বাড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও মানবিক দায়িত্ব—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং অভিবাসন প্রশ্ন আগামী নির্বাচনগুলোর অন্যতম নির্ধারক ইস্যু হতে যাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে গৃহহীনতার প্রকৃত চিত্র সরকারি হিসাবের চেয়ে ভয়াবহ — ক্রাইসিসের প্রতিবেদন

যুক্তরাজ্যের এসাইলাম সেন্টার থেকে বর্ণবিদ্বেষী বার্তা প্রচারের অভিযোগ, তদন্ত শুরু

নিরাপত্তা হুমকি: দেহরক্ষী পেলেন যুক্তরাজ্যের ৩ নারী এমপি