TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শাবানা মাহমুদের নির্বাচনী এলাকার পাশেই অভিবাসী আবাসনের বিস্ফোরণ

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নির্বাচনী এলাকার অদূরেই অবৈধভাবে প্রবেশকারী অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য ব্যবহৃত হাউস ইন মাল্টিপল অকুপেশন (এইচএমও) ভবনের সংখ্যা গত এক দশকে চার গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজ। প্রতিবেদনটি নতুন করে অভিবাসন নীতি, আবাসন সংকট এবং স্থানীয় জনসেবার ওপর চাপ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে উসকে দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের স্যান্ডওয়েল এলাকায় ২০১৫ সালে এইচএমও ভবনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৩৫টি। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২০০টিতে। স্যান্ডওয়েল এলাকা শাবানা মাহমুদের বার্মিংহাম লেডিউড নির্বাচনী এলাকা থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত।

জিবি নিউজের তথ্যমতে, স্মেথউইকের বেয়ারউড রোডেই বর্তমানে অন্তত ১৯টি এইচএমও পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ১৪০ জনেরও বেশি মানুষের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। স্থানীয় এক কাউন্সিলর এ অবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “আমরা এমন জায়গায় খাঁচায় পালন করা মুরগিও রাখতাম না।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, এইচএমও ভবনগুলো বাড়ির মালিকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, কারণ একটি পরিবারকে ভাড়া দেওয়ার তুলনায় একাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করা সম্ভব হয়।

এদিকে হ্যাম্পশায়ারের ইস্টলেতে বসবাসকারী ক্রিস মাইলস ও তার স্ত্রী ব্রিজিট হার্টের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের পাশের একটি তিন কক্ষের বাড়ি নতুন মালিক কিনে সেটিকে ছয় কক্ষের এইচএমওতে রূপান্তর করেন। এতে পার্কিং সমস্যা ও শব্দদূষণ নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও তারা রূপান্তর ঠেকানোর সুযোগ পাননি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্র হয়ে কাউন্সিলের কাছে আর্টিকেল-৪ নির্দেশনা জারির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ বাড়িকে এইচএমওতে রূপান্তরের আগে কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হয়।

প্রতিবেদনটি এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন লেবার সরকার করদাতাদের অর্থে পরিচালিত হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার পরিবর্তে তাদের এইচএমও ভবন বা সামরিক ব্যারাকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।

মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে জনঅসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় মানুষের কাছ থেকে তিনি অভিবাসন ব্যবস্থার “অন্যায্যতা” নিয়ে উদ্বেগ শুনেছেন এবং কম খরচে আবাসনের নীতির কারণে অনেক এলাকা “এইচএমও ব্রিটেন”-এ পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাপক অভিবাসনের প্রভাবে ২০৩১ সালের মধ্যে ব্রিটিশ কর্মীরা গড়ে বছরে প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় হারাতে পারেন। আগামী পাঁচ বছরে মজুরি হ্রাসের মোট অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ৮৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ বলেন, উচ্চমাত্রার অভিবাসনের বাস্তব প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে পড়ছে এবং লেবার সরকার পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ছাড়াই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তিনি জানান, কনজারভেটিভ পার্টি ক্ষমতায় এলে বার্ষিক অভিবাসন সীমা নির্ধারণ, অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতির (আইএলআর) শর্ত কঠোর করা এবং ভিসা ব্যবস্থার বিভিন্ন ফাঁকফোকর বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত নয় রিফর্মঃ দলটিকে এখনো ‘প্রতিবাদী শক্তি’ বলেই দেখছেন বিশ্লেষকরা

যুক্তরাজ্য মৎস খাতে দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট

যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলোর অগ্রগতি ক্ষীণ