13.2 C
London
October 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সময়মত আদালতে আসামী হাজির না করায় বিলম্বিত হচ্ছে বিচার

যুক্তরাজ্যে শত শত বিচার বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানা যায়। আসামিদের সময়মতো আদালতে আনা যাচ্ছে না বলে বিচারেএ এই জট বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।

সারকো এবং জিওএমি চুক্তির অধীনে আসামিদের আদালতে পৌঁছানোর বিলম্বের কারণে “অকার্যকর” হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিচার ব্যবস্থা। মামলার জট প্রায় তিন গুণ বেড়েছে বলেও তথ্যমতে জানা যায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শত শত বিচার ভণ্ডুল হয়ে যাচ্ছে কারণ কারাগারের ভ্যান আসামিকে সময়মতো আদালতে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ২০৭টি ক্রাউন কোর্টের বিচার “অকার্যকর” ঘোষণা করা হয়েছে—অর্থাৎ ওই দিনই বিচার স্থগিত করা হয়—কারণ কারাগার এসকর্ট ও হেফাজত পরিষেবা (পিইসিএস) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত করতে ব্যর্থ হয়। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পাঁচ বছর আগের তুলনায় যা প্রায় তিন গুণ বেশি।

আদালতের মুলতুবি কাজের সংখ্যা বাড়ছে, বাজে অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী ও আসামিদের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। আইনজীবীরা বলেছেন, এসকর্ট বিলম্বের এই বৃদ্ধি বিচারব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান অকার্যকারিতার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। দুটি বেসরকারি পিইসিএস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, জিওএমি এবং সারকো, বলছে তারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

১০ বছর বয়সী সারাহ শারিফকে হত্যার অভিযোগের বিচারে বিচারক মি. জাস্টিস ক্যাভানাগ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিলম্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। গত মাসে একটি শুনানি দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়ার পর তিনি জুরিকে বলেছিলেন, “দুঃখিত, আমরা বিলম্বের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছি; বিচার অনেক দেরিতে শুরু হলো। আমি আমার অসন্তুষ্টি স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি।”

কারাগারের এসকর্ট পরিষেবাগুলোর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো রিমান্ডে থাকা বন্দিদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, যারা প্রায়শই স্থানীয় আদালতের পরিবর্তে দূরের কারাগারে বিচার বা শাস্তির জন্য অপেক্ষা করছেন। এ বছরের জুন পর্যন্ত ১৭,০৭০ জন মানুষ বিচার বা সাজা প্রত্যাশায় কারাগারে ছিল, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৮৬% বেশি। তবে ব্যর্থ পরিবহনের কারণে অকার্যকর বিচার সংখ্যা রিমান্ডে থাকা বন্দিদের বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে।

২০১৩ সালে, সরকারের একটি অডিটে দেখা যায়, সারকোর কিছু কর্মী মিথ্যাভাবে বন্দিদের আদালতে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার তথ্য লিপিবদ্ধ করেছিল। পরে পুলিশ এই তদন্ত বন্ধ করে।

২০১৯ সালে, বরিস জনসনের সরকার সারকোকে ১০ বছরের ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পিইসিএস চুক্তি প্রদান করে। যার মধ্যে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের পুরো অংশ ও ইংল্যান্ডের উত্তর অংশ, মিডল্যান্ডস এবং ওয়েলস অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তখন সরকার বলেছিল যে, চুক্তিতে পরিবর্তন হবে।যেমন বন্দিদের ট্র্যাক করার জন্য নতুন যানবাহন সরবরাহ করা হবে যা চুক্তির ১০ বছরের মেয়াদে আদালতে বিলম্ব কমাতে “উল্লেখযোগ্য সুবিধা” আনতে পারবে।

তবে এরপর থেকে এসকর্ট বিলম্ব বেড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নবায়িত চুক্তির অধীনে এসকর্ট ব্যর্থতার কারণে বিলম্বিত বিচারের ৭০% লন্ডন এবং দক্ষিণ ইংল্যান্ডে ঘটেছে। যেখানে সারকোর দায়িত্বে ৫১% বিচার অনুষ্ঠিত হয়।

সারকো বলেছে, লন্ডন এবং দক্ষিণ-পূর্বে কাজ করার ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং তারা জাতীয় ভ্যান চালকের ঘাটতির মুখোমুখি। যা রাজধানীতে বিশেষভাবে প্রকট আকার ধারন করেছে। তারা মহামারির পর থেকে আদালতের মুলতবি কাজ বৃদ্ধির বিষয়টিও উল্লেখ করেছে।

একজন মুখপাত্র বলেন, “সারকোর এসকর্ট দল কঠিন পরিস্থিতিতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এরপরেও সময়মতো কারাগার থেকে আদালতে বন্দিদের পৌঁছানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি হওয়ায় দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি এবং আরো চালক ও অফিসার নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।”

জিওএমির এক মুখপাত্র বলেছিলেন, তাদের কাছে স্বপ্রতিবেদিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী আদালতে লোকদের সরবরাহের ক্ষেত্রে ৯৯.৯% সফলতার হার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের আদালতে এসকর্ট এবং সরবরাহ করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং এতে বিভিন্ন নির্ভরশীল বিষয় রয়েছে। যার অনেক কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।”

ক্রিমিনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেমস ওলিভেরা-অ্যাগনিউ বলেছেন, “এটি পুরো ব্যবস্থার অকার্যকারিতার একটি লক্ষণ। সারকোকে আরও দক্ষ হতে হবে এবং যখন বিচারের সময় তখন বন্দিদের আদালতে নিয়ে আসতে হবে। এটি সবসময়ই একটি প্রকট সমস্যা হিসাবে ছিল।”

তিনি বলেন, পাঁচ দিনের জন্য নির্ধারিত বিচার এখন এসকর্ট ব্যর্থতার কারণে প্রায়ই ছয় বা সাত দিন পর্যন্ত গড়াচ্ছে। যা প্রতিদিনের জন্য হাজার হাজার পাউন্ড ব্যয়ের কারণ হচ্ছে।

ন্যায়বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “পিইসিএস নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের কারণে দেরিতে আদালতে পৌঁছানোয় ফৌজদারি আদালতের ০.২% এরও কম শুনানি বিলম্বিত হয়। তবে কারাগারের ধারণক্ষমতার সংকট পুরো বিচার ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করেছে এবং আমরা অংশীদারদের সাথে কাজ করছি যাতে আরও বেশি বন্দি সময়মতো আদালতের শুনানিতে পৌঁছাতে পারি।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
১১ ডিসেম্বর ২০২৪

আরো পড়ুন

নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগে পদত্যাগ করলেন প্রীতি প্যাটেল

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটিশ এমপি স্যার ডেভিড অ্যামেস ছুরিকাঘাতে নিহত

অনলাইন ডেস্ক

মৃত্যুর মুখে ব্রিটিশ কারাগারে অনশনরত দুই ফিলিস্থিনপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট