যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবা খাতের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর ১০ শতাংশ হারে নতুন কর আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বর্তমান উত্তরাধিকার কর ব্যবস্থার পরিবর্তে সব ধরনের সম্পত্তির ওপর সমানভাবে ১০ শতাংশ কর আরোপ করা হতে পারে। যদিও সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের কর চালুর কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তাদের নেই।
প্রধানমন্ত্রী অতীতে স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে উত্তরাধিকার করের পরিবর্তে সব সম্পত্তির ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপের ধারণাকে সমর্থন করেছিলেন। সেই অর্থ দিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিনামূল্যে সামাজিক সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা তিনি সে সময় তুলে ধরেন। চলতি সপ্তাহে সামাজিক সেবা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাঁর মুখপাত্র জানিয়েছেন, বক্তব্যের আগেই এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সামাজিক সেবা ব্যবস্থার সংস্কারে সময় লাগবে। তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এমন রোগীদের চাপ সামলাতে গিয়ে সংকটে পড়বে, যাদের প্রকৃতপক্ষে হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই বরং সামাজিক সেবার মাধ্যমে সহায়তা পাওয়া উচিত।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি মূল্যের সম্পত্তির ওপর উত্তরাধিকার কর প্রযোজ্য হয় এবং নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অংশের ওপর ৪০ শতাংশ কর দিতে হয়। তবে স্বামী, স্ত্রী বা নিবন্ধিত জীবনসঙ্গীর কাছে সম্পত্তি রেখে গেলে সাধারণত এই কর দিতে হয় না। এছাড়া সন্তান বা নাতি-নাতনির জন্য বসতবাড়ি রেখে গেলে অতিরিক্ত ১ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে একজনের করমুক্ত সীমা ৫ লাখ পাউন্ড এবং দম্পতির ক্ষেত্রে তা ১০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন ১০ শতাংশ কর চালু হলে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় কর কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ১ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রেও ১০ হাজার পাউন্ড কর দিতে হবে, যেখানে বর্তমানে ওই পরিমাণ সম্পত্তির ওপর কোনো উত্তরাধিকার কর প্রযোজ্য নয়। আবার ৪ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তির ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়মে করের পরিমাণ ৩০ হাজার পাউন্ড হলেও ১০ শতাংশ কর কার্যকর হলে তা বেড়ে ৪০ হাজার পাউন্ড হবে।
এদিকে উত্তরাধিকার কর ব্যবস্থায় আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিবর্তন আসছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া পেনশন তহবিলও সম্পত্তির মোট মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং উত্তরাধিকার করের আওতায় আসবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০টি সম্পত্তি প্রথমবারের মতো এই করের আওতায় আসবে এবং আরও ৩৮ হাজার ৫০০টি সম্পত্তিকে আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে।
তবে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ১০ শতাংশের নতুন কোনো ‘মৃত্যু কর’ চালুর পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, সামাজিক সেবা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। নির্দিষ্ট কোনো নতুন কর আরোপের পরিবর্তে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্রঃ মিরর
এম.কে

