16.8 C
London
September 2, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্কিলড ওয়ার্কারদের রাইট টু ওয়ার্ক যাচাইয়ে কঠোরতা বাড়াল হোম অফিস

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Home Office) লাইসেন্সধারী স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পনসরশিপ গাইডলাইনের নতুন হালনাগাদ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ২০ মে ঘোষিত এই পরিবর্তন মার্চ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক সংশোধনের তৃতীয় ধাপ হিসেবে এসেছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একের পর এক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও অভিবাসন আইনজীবীদের জন্য নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো কর্মীদের ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ বা যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার যাচাই সংক্রান্ত বিধান। প্রথম দুই দফা সংশোধনের মাধ্যমে স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমন কর্মীদের ক্ষেত্রেও বৈধ কর্মঅধিকার যাচাই করতে হচ্ছে, যাদের ক্ষেত্রে আগে এই বাধ্যবাধকতা এতটা বিস্তৃত ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নির্দেশনাগুলো স্পনসর প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপ বাড়াবে। কারণ কর্মীদের অভিবাসন অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, নথি সংরক্ষণ এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা পূরণে এখন আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন হবে। নিয়ম লঙ্ঘিত হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা, স্পনসর লাইসেন্স স্থগিত অথবা বাতিল হওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

হোম অফিসের ধারাবাহিক এই আপডেটগুলো যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অবৈধ কর্মসংস্থান প্রতিরোধ করা এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্পনসরদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিয়োগদাতাদের উচিত তাদের মানবসম্পদ (HR) বিভাগ এবং স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনা টিমকে নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বিদ্যমান প্রক্রিয়াগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা। অন্যথায় অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণেও প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুতর প্রশাসনিক ও আইনগত সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চ থেকে মে পর্যন্ত মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তিন দফা গাইডলাইন পরিবর্তন প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের স্পনসরশিপ ও অভিবাসন নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। ফলে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিয়মিতভাবে হোম অফিসের নির্দেশনা পর্যালোচনা করা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

“একজন আসলে, একজন যাবে” নীতি মানবতাবিরোধী—অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর

রমজান উপলক্ষে বার্মিংহামে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

যুক্তরাজ্যে বাই-টু-লেট কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক খাত হয়ে উঠেছে