TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে £১,০০০ বেনিফিট ঋণেই হারাতে পারেন ড্রাইভিং লাইসেন্স

যুক্তরাজ্যে সরকারি বেনিফিট নিয়ে প্রতারণা এবং বকেয়া অর্থ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেনিফিটের অর্থ ফেরত না দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি টাকা আদায় করা এবং আদালতের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র বাতিল বা সাময়িকভাবে বন্ধ করার ক্ষমতা কার্যকর হচ্ছে।

নতুন এই ব্যবস্থা ২০২৫ সালের ‘পাবলিক অথরিটিজ ফ্রড, এরর অ্যান্ড রিকভারি অ্যাক্ট’-এর আওতায় চালু করা হচ্ছে। মূলত যারা প্রতারণার মাধ্যমে বেনিফিট নিয়েছেন, পরে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সরকারি পাওনা পরিশোধ করছেন না—তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সরকারি পাওনা কমপক্ষে ১ হাজার পাউন্ড হলে এবং অন্য কোনো যুক্তিসঙ্গত উপায়ে সেই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে, ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস বা ‘ডব্লিউপি’ আদালতের কাছে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আবেদন করতে পারবে।

তবে শুধু ১ হাজার পাউন্ডের বেশি বকেয়া থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারও গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র বাতিল হবে না। আদালতকে প্রথমে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য ছিল কি না এবং যথাযথ কারণ ছাড়া তিনি অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন কি না।

এ ক্ষেত্রে গাড়ি চালানো যদি কারও জীবিকা অর্জনের জন্য অপরিহার্য হয়, তাহলে আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ নাও করতে পারে। যেমন—গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন কর্মী, পণ্য সরবরাহকারী, পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি কিংবা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য গাড়ির ওপর নির্ভরশীল কেউ আদালতের কাছে তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরতে পারবেন।

নতুন ব্যবস্থায় গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞা প্রথমে স্থগিত রাখা হতে পারে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনসের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্ধারিত কিস্তিতে নিয়মিত বকেয়া পরিশোধ করতে থাকেন, তাহলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নাও হতে পারে।

কিন্তু কেউ যদি যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বারবার কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহলে আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। একবারের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে।

তবে বকেয়া পরিশোধ না করে কেউ যদি বারবার স্থগিত নিষেধাজ্ঞার শর্ত ভঙ্গ করেন, তাহলে একাধিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে। এর ফলে মোট নিষেধাজ্ঞার সময় দুই বছরেরও বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ পরিশোধ করলে ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনসকে আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা জারির ৫৬ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে ৫৬ দিনের বেশি সময় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ড্রাইভিং অ্যান্ড ভেহিকেল লাইসেন্সিং এজেন্সি বা ‘ডিভিএলএ’-এর কাছে নতুন করে অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করতে হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি দিতে হবে।

শুধু গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্রের ওপরই নয়, বকেয়া অর্থ আদায়ে ব্যাংক হিসাবের ওপরও নতুন ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে সরকার। নতুন ব্যবস্থার আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতের আলাদা আদেশ ছাড়াই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারি পাওনা আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারের যুক্তি, আগে যারা আর বেনিফিট গ্রহণ করতেন না অথবা বেতনভিত্তিক চাকরিতে ছিলেন না, তাদের কাছ থেকে সরকারি পাওনা আদায় করা কঠিন ছিল। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে।

সরকারের দাবি, বেনিফিট জালিয়াতি, ভুল অর্থ প্রদান এবং বকেয়া অর্থ আদায়ে নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে। এই কাজে প্রায় ৩ হাজার অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি তথ্য বিশ্লেষণ, তদন্ত এবং সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান্ড্রু ওয়েস্টার্ন বলেছেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি পাওনা পরিশোধ করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেবে। তবে যাদের সত্যিকার অর্থে অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

মন্ত্রী সাতভির কৌরও বলেছেন, সরকারি অর্থের প্রতারণা এবং আদায় না হওয়া পাওনা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জনসেবাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নতুন ক্ষমতার মাধ্যমে করদাতাদের অর্থ সুরক্ষিত করা এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনসের পক্ষ থেকে যেসব ব্যক্তি বকেয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার চিঠি পেয়েছেন, তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একবারে পুরো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সামর্থ্য অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য কিস্তি পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শুধু বেনিফিটের টাকা বকেয়া থাকলেই কারও গাড়ি চালানোর অনুমতিপত্র কেড়ে নেওয়া হবে না। আদালতকে ব্যক্তির আর্থিক সামর্থ্য, অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণ এবং গাড়ি চালানোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে।

আগামী অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার ফলে বেনিফিট জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ নেওয়া এবং পরে সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ার বিরুদ্ধে সরকারের হাতে আগের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমতা থাকবে। তাই ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনসের কাছ থেকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের চিঠি পাওয়া ব্যক্তিদের সময় থাকতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

কনজারভেটিভ পার্টি পুনরায় ফিরে আসার জন্য লড়াই করতে হবেঃ কেটি বলস

যুক্তরাজ্যে কর্মহীন তরুণদের জন্য নতুন দিগন্তঃ ছয় মাসের প্রশিক্ষণে স্টোর ম্যানেজার হওয়ার সুযোগ

নিউজ ডেস্ক

হোম অফিসের কাছে ‘বর্ণবাদী’ ভিসা রুট বাতিল করার আহ্বান