20.5 C
London
June 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদারঃ তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাই কমিশনারের বৈঠক

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যকার বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং জনসেবা প্রদানে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে “শক্তি থেকে শক্তিতর” গতিতে এগিয়ে চলেছে। উভয় পক্ষই অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সুশাসনভিত্তিক জনসেবা নিশ্চিতকরণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক শুধু ঐতিহাসিক বন্ধনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই গভীর হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩.৩ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছায়। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যের বড় অংশ ব্রিটিশ বাজারে প্রবেশ করছে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি ব্রিটিশ বিনিয়োগও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জ্বালানি, আর্থিক খাত, টেলিযোগাযোগ, অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে।
শিক্ষা খাতেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন। গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচির মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ছে।
বৈঠকে অভিবাসন ও জনসেবা খাতের সহযোগিতাও গুরুত্ব পায়। বৈধ ও দক্ষ কর্মীদের চলাচল সহজ করা, অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সেবার মানোন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমান বৈঠকটি ঢাকা ও লন্ডনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সূত্রঃ ইউকে ইন বাংলাদেশ
এম.কে

আরো পড়ুন

খরা রুখতে যুক্তরাজ্যের নতুন জলাধার প্রয়োজন

১৯ জুলাই ইংল্যান্ডে করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটিশ রাজনীতিতে ‘বিগ মানি’ বিতর্ক তীব্রঃ রিফর্ম ইউকের তহবিলে ৯০ লাখ পাউন্ড