TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ঢাকায় ট্রাম্পের বিশেষ দূতের কূটনৈতিক বার্তাঃ আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ কোম্পানির প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিন দিনের ঢাকা সফর শেষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর।

সফরের শেষ দিনে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সার্জিও গোর জানান, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সফরে আসবেন। তারা সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাত পরিদর্শন করবেন এবং কোথায় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তা সরেজমিনে মূল্যায়ন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। সফরকালে তারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নিয়ে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনা করবেন।

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সার্জিও গোর বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দুই দেশের সামনে থাকা বিস্তৃত সুযোগ-সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাস্তব ও ইতিবাচক ফল অর্জন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সার্জিও গোর বাংলাদেশে সংস্থাটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম, কৃষি এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনার প্রশংসা করে সার্জিও গোর বলেন, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশীদার হওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

সফরের প্রথম দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য জারি করা ভ্রমণ সতর্কতা ইতিবাচকভাবে হালনাগাদ করার ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতে, এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক বার্তা, যা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের উপযোগী গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু বিনিয়োগ বা বাণিজ্য নয়, বরং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনাও বহন করছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেন, ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করা যুক্তরাষ্ট্রের আস্থার বহিঃপ্রকাশ। তবে এই আস্থা ধরে রাখতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, নীল অর্থনীতি এবং আধুনিক শিল্পখাতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক শুল্কব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বলে তার ধারণা।

সফরের দ্বিতীয় দিনে সার্জিও গোর কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদেরও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সার্জিও গোর বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই আসে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সার্জিও গোর আশ্বাস দেন, রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধানে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট, প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দেবে।

তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সার্জিও গোর। সফর শেষে পর্যবেক্ষকদের অভিমত, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং রোহিঙ্গা সংকট—এই চারটি বিষয়ই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

সাবেক সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান গ্রেপ্তার

২৫ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই

ভারতের মতো টুকরো মাংস বা ৫০ গ্রাম হিসেবে মাংস বিক্রি শুরু বাংলাদেশেও