যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়নের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাতিল করেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় অনুমতিপত্র নবায়নে বিলম্ব হলে বহু অভিবাসীকে সাময়িকভাবে চাকরি বন্ধ রাখতে হতে পারে। আগে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার যে সুবিধা ছিল, নতুন বিধিতে তা আর থাকছে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গ ল-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রশাসনের সময় চালু হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাটি বাতিল করে নতুন বিধি জারি করেছে ডিএইচএস। নতুন নিয়মটি ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের সঙ্গে কার্যকর হওয়ার কথা।
নতুন বিধি অনুযায়ী, কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন জমা দিলেও আবেদন অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রশাসনিক বিলম্ব হলে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরি থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। এতে তাদের আয় বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চাকরি ধরে রাখা এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
নিয়মে আরও বলা হয়েছে, কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৮০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ, মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের বেশি আগে আবেদন করার সুযোগ থাকবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে দেরি হলে কর্মসংস্থানে বিরতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
বিশেষ করে যেসব অভিবাসীর বর্তমান কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি এবং নবায়নের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তারা এই পরিবর্তনের কারণে বেশি অনিশ্চয়তায় পড়তে পারেন। অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বয়ংক্রিয় সুবিধা না থাকায় তাদের সাময়িকভাবে কর্মস্থল থেকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে।
নতুন নিয়মের প্রভাব এড়াতে অভিবাসীদের নিজেদের কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ, নবায়নের যোগ্যতা এবং আবেদনের অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া
এমকে

