যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রস্তাবিত কঠোর ভোটার আইন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, ডেমোক্র্যাটদের একতাবদ্ধ বিরোধিতার মুখে রিপাবলিকানরা এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় দলটির নেতারা আইনটি পাস নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন।
“সেভ আমেরিকা আইন” নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রধান আইনগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত ছিল। তার মতে, এই আইন বাস্তবায়ন হলে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের অবস্থান শক্তিশালী হবে। তবে বাস্তবে তা এখন সংকটের মুখে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সিনেটে টানা আলোচনা চললেও রিপাবলিকানরা ভোটার নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবটি পাস করাতে পারেনি। ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই এই আইনের বিরুদ্ধে একজোট অবস্থান নিয়েছে।
প্রথম থেকেই ধারণা ছিল, রিপাবলিকানদের কাছে এই আইন পাসের মতো পর্যাপ্ত ভোট নেই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ধারাবাহিক বিতর্ক ও ভোটাভুটিতে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি, এবং প্রতিবারই দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে।
কট্টরপন্থী নেতারা যেখানে দীর্ঘস্থায়ী ও নাটকীয় বাধা সৃষ্টির প্রত্যাশা করেছিলেন, বাস্তবে সিনেটের কার্যক্রম ছিল তুলনামূলক শান্ত। কোনো দীর্ঘ রাতভর অধিবেশন বা নাটকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, যদিও গত সপ্তাহান্তে সিনেট অধিবেশন চালু রেখে প্রতীকী দৃঢ়তা দেখানো হয়েছে।
বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন বিশেষ বাজেট প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আইনটি পাসের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এই পদ্ধতিতে ডেমোক্র্যাটদের বাধা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলের সফলতার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
দলের ভেতরেই এ নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে।
কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলে তা ডেমোক্র্যাটদের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল হবে এবং তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই বিলকে কেন্দ্র করে গভীর বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্যের কারণে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে আছে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
এম.কে

