20.8 C
London
June 16, 2026
TV3 BANGLA
স্পোর্টস

যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্বকাপঃ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ইরান দল

মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করলেও মাঠের বাইরের বাস্তবতা যেন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের জন্য। বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে দলটির যাতায়াত, ভিসা জটিলতা এবং আয়োজক দেশগুলোর আচরণ। ফলে ফিফার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বকাপের অখণ্ডতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরান দলের লস অ্যাঞ্জেলেসে দুই রাত অবস্থান করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাদের দ্রুত মেক্সিকোয় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে দলটি প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধার অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।

ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোয়ি এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার দাবি, দলটির সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে, যা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে কাম্য নয়।

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দলটির খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা আদৌ ভিসা পাবেন কি না, তা নিয়েও ছিল সংশয়। পরবর্তীতে ভিসা জটিলতা কাটলেও তাদের নির্ধারিত অনুশীলন কেন্দ্র পরিবর্তন করতে হয়। অ্যারিজোনার টুকসনের পরিবর্তে মেক্সিকোর তিহুয়ানাকে বেছে নিতে বাধ্য হয় দলটি।

যদিও তিহুয়ানার স্থানীয় জনগণ ইরান দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছে, তবুও বিশ্বকাপে তাদের চলাচল ও অবস্থান সংক্রান্ত নীতিমালা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার অভাব ছিল শুরু থেকেই। সমালোচকদের মতে, এ কারণে ইরান দলকে এক ধরনের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের বলি হতে হচ্ছে।

স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি পরিস্থিতিকে “বিপর্যয়” বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সব দল ও কর্মকর্তার অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা আয়োজকদের দায়িত্ব। ফিফার সাবেক সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও এটিকে বিশ্বকাপ আয়োজনের একটি মৌলিক নীতি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

তবে বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আয়োজক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় তিনি যথেষ্ট দৃঢ় অবস্থান নেননি। যদিও নিউজিল্যান্ড ম্যাচে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন এবং ম্যাচ শেষে ইরান দলের ড্রেসিংরুম পরিদর্শন করেন, তবুও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

এদিকে মাঠের বাইরে রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও মাঠে ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের “তেহরাঞ্জেলেস” নামে পরিচিত এলাকায় বসবাসরত বিপুল সংখ্যক ইরানি প্রবাসী ম্যাচটি উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে অনেকে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরোধিতা করলেও জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

ম্যাচ চলাকালে রামিন রেজাইয়ান ইরানের হয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম গোলটি করেন। পরে নিউজিল্যান্ড আবার এগিয়ে গেলে মোহাম্মদ মোহেবির গুরুত্বপূর্ণ গোলে সমতায় ফেরে ইরান। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

তবে ম্যাচের উত্তেজনা ও আবেগ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি ইরান দলের জন্য। মাঠের অর্জনের আনন্দকে ছাপিয়ে যায় যাতায়াত অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে সব দল কি সত্যিই সমান সুযোগ পাচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি বৈশ্বিক ঐক্য ও সমতার প্রতীক। কিন্তু ইরান দলের বর্তমান অভিজ্ঞতা সেই বার্তাকেই ম্লান করে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ফিফা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় এবং বিশ্বকাপের নিরপেক্ষতা রক্ষায় কতটা দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রেমিকের আগুনে ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে অলিম্পিক অ্যাথলেটের

পিসিবিকে রাজি করাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান, আছেন বুলবুলও

শ্রীলঙ্কায় হলে খেলবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপঃ ভারতের কাছে মাথা নোয়াবে না বাংলাদেশ