TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘শীতল যুদ্ধের চেয়েও বড় হুমকিতে ব্রিটেন’, সেনাবাহিনী দ্রুত শক্তিশালী করার আহ্বান

বিদেশি প্রতিপক্ষের হুমকিতে যুক্তরাজ্য বর্তমানে শীতল যুদ্ধের সময়ের চেয়েও বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যার গ্যাভিন উইলিয়ামসন। তার মতে, দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের অবিলম্বে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করা জরুরি।

স্যার গ্যাভিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হুমকির মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখনো বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে প্রয়োজনীয় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী নয়। তার ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হলেও সরকার পর্যাপ্ত গুরুত্ব দিচ্ছে না।

তিনি দাবি করেন, রাশিয়া ব্রিটেনকে ফ্রান্স বা জার্মানির মতো দেখে না। ইতিহাসে প্রয়োজনে এককভাবে নেতৃত্ব দেওয়া এবং মিত্রদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর কারণে মস্কো যুক্তরাজ্যকে আলাদা দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ছিল ৭৪ হাজার ৩৭০ জন। তবে স্যার গ্যাভিনের মতে, এই সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ১ লাখে উন্নীত করা উচিত। পাশাপাশি দেশের রিজার্ভ বাহিনীর আকারও উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাজ্যের সামরিক প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও মন্তব্য করেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তার মতে, ব্রিটেন যদি দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পুতিন সেটিকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এদিকে ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের কাছে বহুবিলিয়ন পাউন্ডের একটি চুক্তির আওতায় হস্তান্তরের উদ্যোগেরও তীব্র সমালোচনা করেন স্যার গ্যাভিন। তিনি বলেন, দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত স্থাপনা। তার ভাষায়, এটি একটি “কখনো ডুবে না যাওয়া বিমানবাহী রণতরী”, যার নিরাপত্তা বা কার্যকারিতা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, অতীতে চীনের সঙ্গে করা বড় বড় অর্থনৈতিক চুক্তিগুলোতে শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের চেয়ে চীনই বেশি লাভবান হয়েছে। তার ভাষায়, “চীনের সঙ্গে আমরা যতবার বড় কোনো চুক্তি করেছি, প্রতিবারই ব্রিটেন আরও দরিদ্র হয়েছে এবং চীন আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।”

স্যার গ্যাভিন উইলিয়ামসনের এসব মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ইউরোপের নিরাপত্তা, রাশিয়ার সামরিক তৎপরতা, চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে নতুন করে আলোচনা জোরদার হয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের এখনই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে সাশ্রয়ী আবাসন সংকট ঘিরে সাদিক খানের বিরুদ্ধে আদালতে তিন কাউন্সিল

‘সাংস্কৃতিক ঐক্য’র নামে বৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের পরিকল্পনা ঘৃণ্যঃ লেবার পার্টি

যুক্তরাজ্যের হাডার্সফিল্ডে হোম অফিসের লিজ নেওয়া ভবন খালি, শরণার্থীদের স্থানান্তর অনিশ্চিত