সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রোববার (৭ জুন) রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এ ভূকম্পনে সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাসিন্দা নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে ও রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট অঞ্চলের কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে রাতের নীরবতায় ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার তথ্য ও প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ভবন থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে সবাই নিজ নিজ বাসস্থানে ফিরে যান।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। ভূমিকম্প শুরু হলে শক্ত টেবিল, খাট বা মজবুত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে অবস্থান করলে উঁচু ভবন, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে খোলা স্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বহুতল ভবনে অবস্থানকারীদের ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করে নিরাপদ সুযোগে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার পরামর্শ দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভূকম্পনের প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও পূর্বপ্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

