22.6 C
London
May 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রুশ গুপ্তচরদের ‘পেছনের দরজা’ হয়ে উঠছে আয়ারল্যান্ড! উদ্বেগে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিপুল সংখ্যক রুশ নাগরিককে আয়ারল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় দেশটি রুশ গোয়েন্দা তৎপরতার সম্ভাব্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা। তাদের আশঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এখন রুশ গুপ্তচরদের জন্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশের একটি ‘পেছনের দরজা’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

এমন দাবি করেছেন ডাবলিনের প্রতিনিধিত্বকারী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য এবং আয়ারল্যান্ডের সাবেক শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারি অ্যান্ড্রুজ। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনায় আয়ারল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রুশ নাগরিকদের ভিসা অনুমোদন নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।

ব্যারি অ্যান্ড্রুজ বলেন, যুক্তরাজ্যের তুলনায় আয়ারল্যান্ডের গোয়েন্দা ও নজরদারি সক্ষমতা অনেক সীমিত। ফলে আয়ারল্যান্ডে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে দেশটি তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

তার ভাষায়, “যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ হলো, আয়ারল্যান্ড এমন একটি প্রবেশপথ হয়ে উঠতে পারে যার মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সহজ হবে। কারণ আমাদের কাছে ব্রিটেনের মতো বিস্তৃত নজরদারি সক্ষমতা নেই।”

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আয়ারল্যান্ড প্রায় ১৪ হাজার রুশ নাগরিককে ভ্রমণ অনুমতি দিয়েছে। এসব আবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশ অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ব্যারি অ্যান্ড্রুজ বলেন, আবেদনকারীদের যথেষ্ট যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে কি না, অনুমোদনের প্রক্রিয়া কতটা কঠোর এবং রাশিয়ার সম্ভাব্য গোপন তৎপরতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে নতুন করে মূল্যায়ন প্রয়োজন।

তিনি দাবি করেন, আয়ারল্যান্ডে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার ও গোপন কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন প্রমাণ ইতোমধ্যেই সামনে এসেছে।

আয়ারল্যান্ড ইউরোপের সেই অল্প কয়েকটি দেশের একটি, যা মহাদেশীয় উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত নয়। পরিবর্তে দেশটি যুক্তরাজ্য, চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ এবং আইল অব ম্যানের সঙ্গে একটি বিশেষ অভিন্ন ভ্রমণ ব্যবস্থার অংশ। এর ফলে আয়ারল্যান্ডে বৈধভাবে প্রবেশ করা অনেক মানুষের জন্য যুক্তরাজ্যে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়।

অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের অনেক দেশ রুশ নাগরিকদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আগামী জুলাই মাসে আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে। ব্যারি অ্যান্ড্রুজের মতে, এর ফলে দেশটি আরও বেশি বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, “যখন কোনো দেশ এই দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিশেষ নজরে চলে আসে। অতীতে এমন দায়িত্ব পালনকারী কয়েকটি দেশ অবকাঠামোগত হামলা ও সাইবার তৎপরতার অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছে।”

এ কারণে রুশ ও বেলারুশীয় নাগরিকদের অনুমোদন প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পরীক্ষা এবং সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণেরও সুপারিশ করেছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আয়ারল্যান্ডের একজন বর্তমান বা সাবেক আইনপ্রণেতা রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগে তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগ ছিল, ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত আলোচনার সময় তিনি মস্কোর স্বার্থে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিলেন।

আয়ারল্যান্ডের সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতা ক্যাথাল বেরি একসময় দেশটিকে রুশদের জন্য “খেলার মাঠ” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। তার মতে, বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার এবং তুলনামূলক দুর্বল নিরাপত্তা সংস্কৃতির কারণে আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগ্রহের কেন্দ্র।

২০১৮ সালে ডাবলিনে রুশ দূতাবাস সম্প্রসারণের একটি পরিকল্পনা আয়ারল্যান্ড সরকার প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চারজন জ্যেষ্ঠ রুশ কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সে সময় আয়ারল্যান্ড সরকার জানিয়েছিল, তাদের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য হতে পারেন এবং তারা কূটনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তথ্য সংগ্রহে জড়িত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাশিয়ার আন্তর্জাতিক তৎপরতা নিয়ে বাড়তে থাকা আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে আয়ারল্যান্ডের ভ্রমণ অনুমোদন নীতি এখন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক উদ্বেগ সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিবাসী নৌকা ছিদ্র করল ফরাসি পুলিশ, সুনির্দিষ্ট কৃতিত্ব দাবি করল ব্রিটিশ সরকার

যুক্তরাজ্যে শরণার্থী নীতিতে বড় পরিবর্তন, আদালতে চ্যালেঞ্জ সুদানের দুই আশ্রয়প্রার্থীর

ব্রিটেনে সর্বনিম্ন ৫% ডিপোজিটে মর্গেজের সুযোগ

নিউজ ডেস্ক